অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর তাড়াশের করতোয়া নদী

0
135

তাড়াশ প্রতিনিধি :অতিথি পাখি দেখতে যেতে চান তাহলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রাম ঘেষাঁ করতোয়া নদীতে চলে আসেন। পাখির কলকাকলিতে মুখর করতোয়া নদী। হাজার হাজার পাখি সারাক্ষণ মুখরিত করে রেখেছে নদীটিতে। পাখি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে পাখি প্রেমীরা। এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে, তবুও এর সৌন্দর্য্য কমেনি একফোঁটাও। করতোয়ায় অতিথি পাখির আনাগোনা বেড়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নদীটি যেন হয়ে যায় পাখির আবাসস্থল। এবারও এ নদীতে বাসা বেঁধেছে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখিসহ হাজারো অতিথি পাখি। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি প্রেমীরা দল বেঁধে আসছেন পাখি দেখতে। শীতকাল এলেই এই করতোয়া নদীতে অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে।

খুব বড় না হলেও নদীটি পাখির কারণে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, উড়েচলা, নীরবে বসে থাকা- মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাই দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এক নজর পাখি দেখার জন্য এখানে আসেন। সরজমিন দেখা যায়, শান্ত জলের বুকে কচুরিপানার সবুজ গালিচার মাঝে ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলছে অতিথি পাখির দল। উড়ে চলা পাখির কিচির-মিচিরে মুখরিত চারপাশ। পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতিকূট সহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস বিল এলাকা মুখরিত করে তুলছে। কিন্তু পরিমাণে গত বছরের প্রায় অর্ধেক। এবছরও তিব্বতীয় মানিকচক, সাইবেরিয়ান ফিদ্দাসহ অনেক অতিথি পাখিই চোখে পড়ার মত। এদিকে, প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমান এখানে। উপভোগ করেন মনোরম দৃশ্য। দলবেঁধে যখন পাখিগুলো আকাশে ওড়ে, তার সঙ্গে যেন উড়ে চলে মনও।

পুরো এলাকাটিই সরব করে রাখে এই পাখিগুলো। পাখিদের এই মিছিলে আছে দেশীয় বক, বালিহাঁস, পানি কাউর, পানকৌড়িসহ নাম না জানা অনেক অতিথি পাখি। উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ খন্দকার জানান, নভেম্বর এলেই পাখিগুলো যে কোথা থেকে আসে তা জানি না। তবে প্রচুর পাখি আসে এই গ্রামের করতোয়া নদীতে। বেশ কয়েক বছর ধরেই পাখি আসে এ করতোয়া নদীতে। স্থানীয় প্রদীপ র্কমকার জানান, সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের সাথে অতিথি পাখিদের হৃদয়ের সম্পর্ক অনেক গভীর ও প্রাচীন।

আমাদের অসচেতনতার অভাবে সামান্য স্বার্থের কারণে বা শখের কারণে আমরা শীতের পরিযায়ী পাখিদের শিকার করে মেরে ফেলছি। এতে করে আমরাই আমাদের এই সুন্দর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। পাখিরা নিজ আবাস ভূমি ছেড়ে চলে আসে। সেই পাখিগুলোর বেশিরভাগই আবার তাদের নিজ ভূমিতে শীত শেষে ফিরে যেতে পারে না এক শ্রেণির অর্থ লোভী পাখি শিকারিদের অত্যাচারে। এটা আমাদের জন্য খুবই মর্মদায়ক। মানুষের সৃষ্ট কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেজবাউল করিম বলেন, পাখি প্রকৃতির অলংকার। এ অলংকার ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য পাখির বিচরণ ক্ষেত্র মুক্তভাবে রক্ষা করতে হবে। আমি নিজে পাখির অভায়শ্রম দেখতে যাব। সেখানে জনগণকে সচেতন করা হবে। যেন কেউ পাখিদেরকে বিরক্ত না করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে