অপরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেট নির্মাণ: কার্তিকেই পানিশূন্য মূসাখাঁ নদীর মুখ

0
67

নাটোর প্রতিনিধি: অপরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে বড়ালের পাশাপাশি মূসাখাঁ নদী যৌবন হারিয়েছে। সংস্কারে তেমন সুফল আসেনি। কার্তিক মাসেই মূসাখাঁ’র উৎপত্তিস্থল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

বড়াল পদ্মার শাখা নদী। রাজশাহীর চারঘাটে বড়ালের উৎপত্তিস্থল। বড়াল পদ্মা থেকে বেরিয়ে আঁকা-বাঁকা পথে চারঘাট, বাঘা, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম উপজেলার মধ্য দিয়ে পাবনা পেরিয়ে সিরাজগঞ্জে যমুনায় মিলিত হয়েছে।

অপরদিকে মুসা খাঁ’র উৎপত্তিস্থল বড়াল। বড়ালের শাখা মুসা খাঁ নদী নাটোরের বাগাতিপাড়ার জামনগর পুলিশ ফাঁড়ি মোড় সংলগ্ন ত্রিমোহনী নামক স্থানে বড়াল থেকে বেরিয়ে আঁকা-বাঁকা পথে হাপানিয়া, উমরগাড়ি, জাগিরপাড়া, করমদোষি, জয়রামপুর পীরগাছা, ঝলমলিয়া ও মধুখালি’র মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্রাম- মাঠ -ঘাট পেরিয়ে নলডাঙায় আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে।

কয়েক যুগ আগেও মূসাখাঁ’র যৌবন ছিল। এ নদী বর্ষা মৌসুমে বন্যায় কানায় কানায় পূর্ণ হতো। প্রখর স্রোত ছিল। কোন কোন সময় দূ’কূল বন্যায় প্লাবিত হয়ে পলিমিশ্রিত পানি বিভিন্ন মাঠে প্রবেশ করতো। কৃষকরা পলিমিশ্রিত উর্বর জমিতে দ্বিগুণ ফসল ফলাতো। সারাবছর জেলেরা নদীতে ছোট বড় মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতো। বিভিন্ন জায়গায় পণ্য বোঝায় বড় বড় পালতোলা নৌকা যাতায়াত করতো। নৌকাবাইচ হতো। কিশোর-কিশোরীরা আনন্দে সাঁতার কাটতো। কালের আবর্তে ও চারঘাটে বড়ালমুখে স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে ক্রমান্বয়ে মুসা খাঁ’র টইটম্বুর যৌবনে ভাটা পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে মূসাখাঁ’য় বড়াল থেকে বন্যার স্রোতহীন পলিমিশ্রিত সীমিত পানি প্রবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন মাঠ ও নালার অতিরিক্ত পানি মুসা খাঁ নদীতে প্রবেশ করায় অর্ধপূর্ণ হয়। আবার বর্ষা শেষে জমা পানি বড়ালে নেমে যায়। শুষ্ক মৌসুমে মূসাখাঁ থাকে প্রায় পানিশূন্য।

সরকারি অর্থায়নে ২০১০-১১ অর্থ বছরে উৎপত্তিস্থল থেকে পীরগাছা শ্মশান ঘাট পর্যন্ত ৬.৫ কি.মি খনন করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৯৫ লাখ টাকা। কিন্তু তেমন সুফল আসেনি। বড়ালের বন্যার স্রোতহীন পলিযুক্ত পানি প্রবেশ ও অতিরিক্ত বর্ষণে নদীর পাড় ভেঙে তলদেশ অনেকাংশে ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমান মুসা খাঁ’র মাঝে মাঝে খাদ-খন্দকে সামান্য পানি দেখা গেলেও উৎপত্তি স্থল পানিশূন্য। শুষ্ক মৌসুমে মূসাখাঁ’র বক্ষ পানিশুন্য থাকবে বলে অনেকের ধারণা।

করমদোষি গ্রামের শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, খননের পরবর্তী সময়ে মূসাখাঁ’র যৌবন জৌলুস কিছুটা ফিরেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বর্ষায় পাড়ের মাটি ধসে পুনরায় তলদেশ ভরাট হওয়ায় ক্রমান্বয়ে জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে। জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, খননের পরে পুনরায় মুসা খাঁ’র মুখ পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। অন্য অংশে শুষ্ক মৌসুমেও কম-বেশি পানি থাকে। মূসাখাঁ’র পূর্বের টইটম্বুর যৌবন কোন দিনই ফেরানো সম্ভব হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে