অবরুদ্ধ মা অবরুদ্ধ ঈদ

0
39
ফাত্তাহ তানভীর রানা:  
করোনা আমাদের ভাবনার জগতে অনেক পরিবর্তন এনেছে। যা আমরা ভেবেছিলাম তা’ করতে পারছি না। কিন্ত, যা ঘটছে তা’ কেউ কখনো ভাবেনি। করোনার করালগ্রাসে অনেক সময় মানুষ সিদ্ধান্তে বাঁক আনতে বাধ্য হচ্ছে। ঈদ যাত্রায়, ঈদ আয়োজনে করোনার প্রভাবে সব শ্রেণির মানুষ প্রভাবিত। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো করোনায় শুধু ঋণগ্রস্ত হয়েছে কি? বরং সাথে প্রচ্ছন্ন হতাশাও হাতছানি দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ঈদ আয়োজনে প্রাণ ছিল না। তা’ হতে পারে প্রিয়জনের অসুস্থতা, স্বল্প সময়ের ঈদ অথবা
দীর্ঘ লকডাউনে কর্মহীনতার কারণে। কিন্তু, হায় মানুষের কি’বা করার রয়েছে! মানুষ তো আর প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। ভাগ্য বিধাতার ইচ্ছেয় করোনাকে সাথে নিয়ে আমরা চলছি।
জন্মস্থান-বাড়ির বাইরে আমি কর্মস্থলে দ্বিতীয় বছর ঈদযাপন করেছি। এই ঈদে আমার মা আমার সাথে ছিলেন না। জীবনের প্রথমবার মাকে ছাড়া ঈদ করলাম! জীবনের প্রারম্ভেই বাবাকে হারিয়ে মায়ের সাথে ঈদ করে কখনো শূণ্যতা অনুভব করিনি। এই প্রথমবার ঈদ অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। আমি কাউকে ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাইনি। সাধের ফেসবুকেও আমার ওয়াল থেকে কাউকে উইশ করিনি! এক ধরণের অস্থিরতা ছিল মনে।
আমার মা এক মাস পূর্বে আমার বড় বোনের বাসা রাজশাহীতে গিয়েছেন। তিনি যাবার কয়েকদিন পর থেকেই রাজশাহীতে লকডাউন! এরপর সারাদেশ লকডাউন। তিনি মেয়ের বাসায় গিয়ে আটকে গিয়েছেন। সারা জীবন আমার মা ঈদের দিন কুরবানির মাংস নিজ হাতে বিলি করতেন। এই ঈদে তা’ হল না। ঈদের কয়েক দিন আগে গণপরিবহন চালু করা হলেও  বাস্তবতার নিরিখে আমি, আমার বোন, মা কেউই স্থান ত্যাগ করা সমীচীন বলে মনে করিনি। আমি, আমার মা, আমার বোন সবাই ঈদে অবরুদ্ধ হয়ে গেলাম। দেশের পরিস্থিতি আমাদের অবরুদ্ধ করে দিল!
ঈদে মা কাছে ছিল না, ভিন্ন অনুভূতি হয়েছে; চাইলে ভীড় ডিঙিয়ে- বাধা দূর করে মায়ের কাছে রাজশাহীতে যেতে পারতাম সত্যি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি যাইনি! মা তুমি যেখানেই থাকো ভালো থাকো, সুস্থ থাকো। সবার মা ভালো থাকুক; সুখে থাকুক সবার মা।
ঈদ পরে দিনগুলি মায়ের সাথে সবার ভালো কাটুক। সবার আগামী ঈদগুলো হোক মায়ের সাথে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে