আগামী পাঁচ বছরে গাধার সংখ্যা নেমে আসবে অর্ধেকে !

0
255

গাধা, একটি নিরীহ প্রাণি । নির্বিচারে সেই গাধাকে হত্যা করা হচ্ছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে গাধার সংখ্যা নেমে আসবে অর্ধেকে ! এমনটিই প্রকাশ পেয়েছে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে গাধা হত্যার নেপত্যের কারণও।

চিন গাধাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছে এক ধরনের ওষুধ। আর তার জন্যই তাই চিনের ওষুধের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ গাধাকে হত্যা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, গাধার চামড়া দিয়ে এজিওয়াও নামক কারখানায় ওষুধ বানানো হচ্ছে। যেটা নাকি চিনের কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য। চিনের এই ওষুধকে বলা হয় এজিওয়া। আর প্রতিবছর এই ওষুধের চাহিদা মেটাতে দরকার পড়ে ৪৮ লক্ষ গাধার চামড়া।

জরিপে দেখা যায় বর্তমান বিশ্বে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ গাধা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে যেটা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে । ২০০৭ সাল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ২৮ শতাংশ, বতসোয়ানায় ৩৭ শতাংশ ও কাজাগিস্তানে ৫৩ শতাংশ গাধা কমে গেছে। কেনিয়া ও ঘানাতেও চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাপকহারে গাধা হত্যা করায় এরা সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়াও এইসব প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল থেকে যাদের জীবিকা চলে, তাদের কাছ থেকে এসব গাধা চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। চুরি করার পর এসব গাধাদের কোন খাবার বা পানি দেয়া হয় না। এতে ২০ শতাংশ গাধা পথেই মারা যায়। আবার গাড়িতে তোলা-নামা করার সময়ও অবহেলা করা হয়, গাড়ি থেকে কান কিংবা লেজ টেনে নিচে নামানো হয়। এতে প্রাণীটির পা ও খুর ভেঙে যেতে দেখা যায়।

ডানকি স্যাংচুয়ারির গবেষণা বিষয়ক পরিচালক ফেইথ বারডেন বলেন, ‘যেখানে বাণিজ্যের জন্য যখন গাধাকে হত্যা করা হয়, সেখানে প্রাণী অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ভয়াবহ। আমরা আগে যেমনটা জানতাম, ঘটনা তার চেয়েও মারাত্মক।’

হাজার বছর ধরে চিনের ওষুধ বানাতে এসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ওষুধ মানুষের রক্তস্বল্পতা কমিয়ে আনে ও রক্তসঞ্চালনে সহায়তা করে। এই ওষুধ তৈরি করতে গিয়ে ১৯৯২ সাল থেকে চিনে গাধার সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমে গেছে। নিজেদের অভাব পূরণে বিভিন্ন দেশ থেকে গাধা আমদানিও করতে হচ্ছে চিনে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে