আজ পাবনা জেলা আঃলীগের সম্মেলন : চলছে নানা বিশ্লেষণ

0
33

পাবনা প্রতিনিধিঃ আজ শনিবার ৭বছর পর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষন।
সভাপতি পদে রেজাউল রহিম লাল এবং শাসসুল হক টুকু ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং মো. মাজহারুল ইসলাম মানিক এর নাম ঘুরপাক খাচ্ছে।
পুলিশ লাইন মাঠে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশাল আকারের ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো পাবনা শহর, রাতে জ্বলে উঠছে নানা রংয়ের আলোয়। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে অনন্ত বাজার, টেকনিক্যাল মোড়, ডিসি অফিস রোড, জজকোর্ট, গাছপাড়া মোড়, কলেজগেট, লাইব্রেরি বাজার হয়ে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত সড়কের কোথাও খালি নেই।ব্যানার-পেস্টুনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বিশাল শুভেচ্ছা তোরণ। এসব তোরণে আগত নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শীর্ষপদ প্রত্যাশীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে পাবনা আওয়ামী লীগে এখন উৎসবের আমেজ।
দলীয় সূত্র জানায়, গতবারের মতো এবারও শহরের পুলিশ লাইনস্ মাঠে সম্মেলন হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, বিশেষ অতিথি সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল এবং সঞ্চালনায় সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি। সম্মেলনস্থলের বিশাল প্যান্ডেলে প্রায় ১০ হাজার ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসতে পারবেন।
এই সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে প্রায় দুই ডজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
এবারের সম্মেলন পরবর্তী কাউন্সিলে সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পাবনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শাসসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য দলের জেলা কমিটির সহসভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, পাবনা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসম আব্দুর রহিম পাকন, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা তৌফিকুর আলম তৌফিক প্রমুখ।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পাবনা সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ উপকমিটির সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম মানিক, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল হাসান শাহীন, কামরুল হাসান মিন্টু।
এবারের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, হাউব্রিডদের কারণে আজ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অনেকাংশে উপেক্ষিত। গুনগত মান উন্নয়নে সাংগাঠনিক কর্মকান্ড তরান্বিত করতে এবং আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিতের জন্য এবারের সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, পাবনা জেলার সকল ইউনিট আওয়ামী লীগের মধ্যে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে কোন প্রকার গ্রুপিং নাই। তৃণমূলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে প্রতিটি জেলায় সম্মেলন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলার সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব একটু বেশি।
দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা রেজাউল রহিম লাল বলেন, একটি সফল ও সুন্দর সম্মেলনের জন্য তারা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে জেলায় দল আরো গতিশীল হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের নিবেদিত হয়ে কাজ করছি কোনদিন বেইমানি করিনি সুবিধা নেয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলের হয়ে কাজ করব। জেলায় আমার চেয়ে বেশী কর্মী বান্ধব নেতা আর নাই। দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই মেনে নেব।
২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের ১৩ মাস পরে ৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। এর মধ্যে ২৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে