আবদুল হামিদ-বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী বৈঠক : সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র কাজে লাগাতে কাজ করবে বাংলাদেশ-নেপাল

0
79

অনলাইন ডেস্কঃ পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে কাজে লাগাতে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও নেপাল। সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী এ বিষয়ে একমত হন।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে বাংলাদেশে আসার জন্য নেপালের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মার্চ মাস বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক সময়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর সন্ধিক্ষণ। এই অনুষ্ঠানে বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণ আনন্দিত ও গর্বিত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদ্যা ভাণ্ডারীর এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

রাষ্ট্রপতি এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধে নেপালের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান। আবদুল হামিদ সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছেন- বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বহুক্ষেত্র রয়েছে যেখানে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করে দুই দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তিনি এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, নেপালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন- এর ফলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায় ও উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ জিটুজি প্রক্রিয়ায় নেপালকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান বিদ্যা ভাণ্ডারী।

এদিকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর পর্যটন, স্যানিটেশন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও রেলওয়ে সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন এবং নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব যাদব প্রসাদ কৈরালা যৌথভাবে পর্যটন সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেসবাউল ইসলাম এবং নেপালের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব দীনেশ ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সহযোগিতা জোরদার করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব বদরুল আরেফিন ও নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব যাদব প্রসাদ কৈরালা স্বাক্ষরিত ২০২২-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন এবং নেপাল সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব দীনেশ ভট্টাচার্য তাদের নিজ নিজ দেশের পক্ষে রোহানপুর-সিগবাদ রেলওয়ে রুট সংস্কার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

বাংলাদেশ পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং নেপালের প্রেসিডেন্টের কন্যা ঊষা কিরণ ভাণ্ডারী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গায়াওয়ালি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নেপালের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার সহধর্মিনী রাশিদা খানম তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নেপালের প্রেসিডেন্টের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ডাইনিং হলে এই ভোজসভার আয়োজন করেন। রাষ্ট্রীয় ভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানাও অংশ নেন।

এছাড়া জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে