উচ্চমূল্য ঠেকাতে বাজারে আসছে শেরপুরের সবজি

0
52

বরাবরই সবজির বাম্পার ফলন ফলিয়ে দেশের বাজার স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখতো শেরপুর জেলার চাষিরা। তাদের চেষ্টা থাকতো আগাম ফসল ফলিয়ে নতুন ফসলের বাজারটা ধরা। ফলে বাড়তি দাম পেয়ে উজ্জীবিত থাকতেন কৃষকরা। তবে বন্যার কারণে খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা শেরপুরে এবছর সবজি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে। এবার তাই আগাম সবজি বাজারে খুব একটা আনতে পারেননি শেরপুরের কৃষকরা। তবে তারা সাহস হারাননি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আবারও চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা পেরিয়ে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে চাষিরা মাঠে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে যোগ হবে এই জেলার দুই লাখ ৯৯ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন সবজি। এত বিপুল সবজি ধারাবাহিকভাবে আসায় বাজার হয়ে যাবে স্বাভাবিক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার রবি মৌসুমে  শেরপুর সদর উপজেলাসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর ৮ হাজার ৫শ ৬২ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে  বেগুন আবাদ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ২০০ মে. টন। এছাড়াও উৎপাদিত হবে হাজার হাজার টন টমেটো, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পটল, বরবটি, শসা, ঝিঙ্গা, ডাঁটা, গোল আলু, কাঁকরোল, গাজর, লাল শাক, চিচিঙ্গা, পুঁই শাক, গিমা কলমি, পালং শাক, করলা, ধনে পাতা, খিরা, মটরশুঁটি, পেঁপে, ধুন্দল, সজনে, মুখূকচু, গাছ আলু, ওলকচু, পঞ্চমুখী, পানি কচু, কাঁচামরিচ, শুকনা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ।

শ্রীবর্দীর চৈতাজানি গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও উমেদ আলী বলেন, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে আগাম সবজি উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ নানা জেলায়  শেরপুরের সবজি সরবরাহ হতো। কিন্তু গেলো বন্যার কারণে  তাদের প্রস্তুত করা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যা পরবর্তী সময়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও সবজি ক্ষেতে দেখা দেয় পোকা আর ছত্রাকের আক্রমণ। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতকালিন সবজি সরবরাহে ব্যর্থ হন তারা। এ সময় স্থানীয়দের নির্ভর করতে হয় জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার গারো পাহাড়ে উৎপাদিত সবজির ওপর।

শেরপুর সদর উপজেলার কৃষক শাহজাহান, খোকন মিয়া, রুবেল ও ফকির আলী বলেন, বন্যার কারণে তারা পিছিয়ে পড়লেও উৎপাদন লক্ষমাত্রা ঠিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তারা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শশা, করলা, শিম, চিচিঙ্গা, বরবরটি, বেগুনসহ বিভিন্ন প্রকারের শাক সবজি বাজারজাত করতে পারবেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় পাইকার রজব আলী বলেন, হঠাৎ করে সবজির বাজার চড়া হয়ে যাওয়ায় তিনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন।আরেক পাইকার মজিবর মিয়া বলেন, প্রতিবছর শীতকালীন সবজি বিক্রি করে মোটামুটি ভালোই লাভ হতো। কিন্তু, এবার তার ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে সবজি সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে না থাকায় তিনি ওই ক্ষতির শিকার হন বলে দাবি করেন।

শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে যোগ হবে এই জেলার দুই লাখ ৯৯ হাজার  ৬৭০ মেট্রিক টন সবজি। তখন সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে