একনেকে প্রধানমন্ত্রী : প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতিকে সচল রাখছে

0
81

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে তার সরকারের দেয়া সময়মতো প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বিশেষ করে কৃষি ও শিল্পসহ সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, আমরা শিল্প ও অন্যান্য খাতে প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি কৃষিখাতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। আমরা ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড় এবং পোশাক শিল্পে আলাদা করে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সব খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (একনেক) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রী ও সচিব অংশগ্রহণ করেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে যোগ দেন।

এদিন একনেকে চার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন কোভিড-১৯ উপলক্ষে তার সরকারের প্রণোদনা প্রদান ‘অত্যন্ত সময়োপযোগী’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কত টাকা আছে, কি আছে না আছে, সেটা চিন্তা করিনি। বরং একটাই চিন্তা করেছিলাম- এ দুঃসময়ে আমাদের অর্থনীতির চাকাটাকে যদি গতিশীল রাখতে হয় তাহলে অবশ্যই মানুষের হাতে আমাদের টাকা পৌঁছে দিতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, যদি টাকা না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষদের জীবনটা চালানোই মুশকিল হয়ে পড়ে। কাজেই তাদের সাহায্যে নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন সেক্টরে আমরা সরাসরি যে টাকা পাঠিয়েছি সেটা কিন্তু কাজে লেগেছে। গ্রামে মানুষের কিছু একটা করে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটা তারা করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, সর্বাগ্রে আমি কৃষির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেছি কৃষিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং খাদ্য উৎপাদনটা বাড়াতে হবে। মানুষের যেন খাবারের কষ্ট না হয় সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা যে প্রণোদনাটা দিয়েছি সেটি যখনই সবাই নিতে শুরু করেছে তখনই কিন্তু আস্তে আস্তে নিজ নিজ ব্যবসা-বাণিজ্যে তারা ফিরে আসতে পেরেছে। কারণ, আমরা এমন কোনো খাত বাদ নেই যাদের সাহায্য করিনি। শুধু বড়লোক বা বিত্তশালী নয়, সব ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাই প্রণোদনাটা পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা বা নগদ সাহায্য প্রদানের ধরন সম্পর্কে বলেন, নতুন একটা পদ্ধতিতে আপনারা কাজটা করেছেন। কিন্তু রেজাল্ট যেটা দেখলাম সেটা আসলেই গ্রহণযোগ্য। তিনি এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং বিবিএসকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি দেশের এক শ্রেণির তথাকথিত সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলছেন, আসলে এ রেজাল্টটা প্রচার করলে, না জেনে যারা নানা কথা বলে যাচ্ছেন- এটা হল না, সেটা হল না, তারা একটু তথ্য পাবেন। যদিও বলাটাই তাদের একটা অভ্যাস, তারা বলবেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, কোনো একটা কাজের পর সেটার কি (ফলাফল) হল, মানুষের কাছে এর কতটুকু (সুফল) পৌঁছাল, সেই ফলাফলটা জানা খুব দরকার।

একনেকে চার প্রকল্প অনুমোদন : এদিন রোহিঙ্গা সহায়তা প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবসহ একনেকে চার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৯১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসব তথ্য জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) শামীমা নার্গীস, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজদ, আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে হাটবাজারে পরিণত না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই থাকে।

এগুলোতে ব্যাপক গবেষণা হতে হবে। সেসব গবেষণা বেশি বেশি প্রকাশের ব্যবস্থাও নিতে হবে। ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দিতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

একনেক অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় এলাকার পোল্ডার নং ৬২, পোল্ডার নং ৬৩/১ এ, পোল্ডার নং ৬৩/১বি প্রকল্প এবং হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প।

সংরক্ষিত চালের মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর : সরকারি গুদামে সংরক্ষিত চালের গুণগত মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার সকালে তিনি গণভবনে সারা দেশের ও এলএসডি হতে সংগৃহীত বোরো এবং আমন মৌসুমে বাংলাদেশে উৎপাদিত সিদ্ধ ও আতপ চালের নমুনা পর্যবেক্ষণ করেন।

মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়- প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর ভাদ্রতে গুদামগুলোতে সংগৃহীত নিচের দিকে রক্ষিত চাল উপরে এবং উপরের চাল নিচে রাখার নির্দেশনা দেন; যাতে করে অপেক্ষাকৃত পূর্বে ক্রয়কৃত চাল প্রথমে বিতরণ করা যায়।

তিনি ২০১৯ সালে সংগ্রহ করা চাল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেন।

এছাড়া বগুড়ার শান্তাহারে স্থাপিত ওয়্যারহাউসের ন্যায় দেশের অন্যান্য প্রান্তেও খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য এ ধরনের আধুনিক গুদাম নির্মাণের নির্দেশ দেন।

এতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অধিক পরিমাণে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব গুদামে সংগৃহীত চালের তথ্য একটি ডাটাবেসের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও দেন।

এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে