এবারের বর্ষায় ঢাকা-চট্টগ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আভাস

0
129

মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিআরটি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের কারণে রাজধানীর অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে পড়েছে।

এ কারণে এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় এবং পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তারা এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন।

সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শরীফ আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের উন্নয়ন কাজের কারণে মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও তালতলা পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে।

সেসব ড্রেনেজ সংস্কার কাজ এখনও শুরু হয়নি। এছাড়া বিজয় সরণির ‘বিমান চত্বর’ থেকে খামারবাড়ি হয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে।

ওই ড্রেনেজ সংস্কার করে দেয়ার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হলে তারা সিটি কর্পোরেশনকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু গত দুই মাসেও কোনো টাকা দেয়নি। বর্ষা আসন্ন এ অবস্থায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। কেননা মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের কারণে ক্ষতি সড়ক বা ড্রেনেজ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সংস্কার করে দেবে এটাই সিস্টেম।

তিনি আরও বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের কারণে টিসিবি ভবন সংলগ্ন ওয়াসার ড্রেনেজ ছিল; যেখান থেকে পানি হাতিরঝিলে চলে যেত। সে সময়ে কারওয়ান বাজারে কোনো জলাবদ্ধতা হতো না। এখন পানি নিষ্কাশন ড্রেন ঘুরিয়ে দেয়ার কারণে হাতিরঝিলে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এবারের বর্ষার আগে হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ টিসিবি ভবনের সামনের পানি নিষ্কাশন গেটগুলো খুলে দিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়া হাতিরঝিলে সরাসরি পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেয়ার কারণে মগবাজার নয়াটোলা ও মগবাজার প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রকৌশলী শরীফ আহমেদ জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের জন্য চারপাশের নদী ও খালগুলোর সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান করে দখলদার উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশন প্রবাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। আর এ কাজ বাস্তবায়নে বেসামরিক সংস্থার বাইরের কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমাদের সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী যে পরামর্শ দিয়েছেন; সেটা অত্যন্ত যৌক্তিক।

আমি মনে করি, ঢাকার চারপাশের নদী এবং শহরের ভেতরের খালগুলোর সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া উচিত। কেননা দখলদাররা অনেক শক্তিশালী বেসামরিক সংস্থার মাধ্যমে এসব দখলদার উচ্ছেদ করে খালগুলো দখলদারমুক্ত করা সম্ভব হবে না।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা শহরে পানি নিষ্কাশনের সামূহিক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

এখনও পর্যন্ত সমন্বিত কোনো মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করা হয়নি। শহরের এসব ক্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সমাধান করে জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের রুটিন কার্যক্রম ঢাকা ওয়াসা পরিচালনা করছে। ২২ খালের ৩০ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৩৮০ কিলোমিটার পাইপলাইন পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী শাহ ইমদাদুল হক বলেন, ঢাকার পানি নিষ্কাশনের মূল দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। এরপরও সিটি কর্পোরেশন শান্তিনগর, সচিবালয় এলাকা, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডসহ বেশকিছু এলাকায় ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করেছে। ওইসব এলাকায় যদি ঢাকা ওয়াসার পানি নিষ্কাশন সিস্টেম কার্যকর থাকে; তাহলে ওইসব এলাকার পানি সরে যাবে। আর সেটা না হলে, সেসব পানি সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনে থাকবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, গত বর্ষায় রাজধানীর সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসাকে এবার সেসব এলাকার সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এবারের বর্ষায় ঢাকা শহরে যাতে কোনো ধরনের জলাবদ্ধতা না হয়; সেজন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসাকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শহরের জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনকে দুটো প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরের দখলদার উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। সভায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন।

এ সময় সভায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে