করোনাভাইরাস শনাক্তে ৫০০ কিট দেবে চীন : রাষ্ট্রদূত

0
153
ফাইল ছবি

নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে বাংলাদেশকে চীন ৫০০ কিট দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। চীনের এ দুঃসময়ে বাংলাদেশ যে সহমর্মিতা দেখাচ্ছে তা বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এ কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়- করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত চীনের বাসিন্দাদের জন্য মাস্ক, গাউন, ক্যাপ, হ্যান্ড গ্লাভস ও স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন মহানুভবতার সাধুবাদ জানাই।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে চীনকে বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চীনা দূতাবাস ৫০০ করোনাভাইরাস কিট সরবরাহ করবে। তিনি জানান, দু’পক্ষের কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের হাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী তুলে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, সহমর্মিতামূলক সহায়তা হিসেবে চীনের জন্য এসব সামগ্রী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যথাযথ সেবা দেয়ায় চীন সরকারের প্রশংসা করেন।

এ সংকট চীন দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রধানমন্ত্রী নিমন্ত্রণ জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, উহান শহর থেকে ৩১২ বাংলাদেশিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ওই বিমানের পাইলটদের অন্যদেশ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছে বিমান।

তিনি জানান, চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ আরও ১৭১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের আরও কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর দেশে ফেরার পরামর্শ দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেন, একমাত্র সিঙ্গাপুর ছাড়া কোথাও কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এছাড়া এ ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের চীনা প্রকল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি খুব শিগগিরই চালু হবে।

২৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে উৎপাদন করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় খরচ বেড়ে যায়। বড় জাহাজ আসতে পারে না। বাংলাদেশে এক লাখ ২০ হাজার টনের একটি জাহাজ এলে সেটি খালাস করতে কমপক্ষে ১০টি ছোট জাহাজ গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়।

এতে প্রতি টনে ৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়। মাতারবাড়ীতে নদী খনন করা হয়েছে। নদী খননের ফলে সেখানে আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর হয়ে যাচ্ছে। আর এটি হলে অনেক খরচ বেঁচে যাবে।

গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে চীন ও জাপানের আগ্রহের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে জাপানিরাই কাজ করছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর জাপান করে দিচ্ছে। মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মাটি খনন করা হয়েছে নদী থেকে। ফলে নদী ১৪ মিটারের মতো গভীর হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে গিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর হয়ে যাচ্ছে। তাহলে পয়রা গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটার বেশি দুটিও গভীর সমুদ্রবন্দর থাকতে পারে। সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার নিয়ে কুয়েতের একটি গণমাধ্যমের খবর সঠিক নয়। এ নিয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে