করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: বৃটেনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ

0
93

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সেকেন্ড ওয়েভে করোনা ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ হওয়ায় বৃটেনের সঙ্গে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ইসরাইলসহ অনেক দেশ তাদের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও কয়েকজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী সতর্ক করে বলেছেন, বৃটেনে প্রাপ্ত করোনার নতুন রূপ প্রথম ধাপের চেয়েও মারাত্মক। ভাইরাসের এ নতুন ধরন আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ফলে দেশের বৃহৎ অংশে টিয়ার-৪ তথা সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন যে প্রজাতির ভাইরাসের কথা প্রধানমন্ত্রী ও বিজ্ঞানীরা বলেছেন তা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। এমন সতর্কবাণীর পর বৃটেন থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দেশ। নেদারল্যান্ডস প্রথম দেশ যাতায়াত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে। ১লা জানুয়ারি অবধি তা স্থায়ী থাকবে। গতকাল দেশটি সরকারী এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আয়ারল্যান্ড মধ্যরাত থেকে বৃটেনের সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে ফ্লাইট এবং ফেরিতে যাত্রী রয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের পরিবহণমন্ত্রী ইমন রায়ান বলেছেন, আমাদের এটি করতে হবে। কারণ ইউকে সরকার নিজেই চলাচলে খুব কঠোর বিধি-নিষেধ চালু করেছে।

জার্মানি কার্গো ফ্লাইট বাদে বৃটেনের সমস্ত ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে। আর কোন যাত্রীবাহী ফ্লাইট সেদেশে নামতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে। ডয়চে প্রেসে-এজেন্টুর অনুসারে, কমপক্ষে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে।

বেলজিয়াম বলেছে, মধ্যরাত থেকে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বৃটেন থেকে বিমান ও ট্রেনের যাতাযাত স্থগিত করা হচ্ছে। ইতালি ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত বৃটেনের সঙ্গে সকল ফ্লাইট বন্ধ করেছে। এছাড়া বৃটেনে গত ১৪ দিনের মধ্যে থাকা যে কোন ব্যক্তিকে ইতালি প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এল সালভাদোর গত ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্য বা দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাতায়াতকারীদের সেদেশে নিষিদ্ধ করেছে। চেক রিপাবলিক বৃটেনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবছে।

উল্লেখ্য, ভাইরাস সাধারণত নিজেকে পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিয়ে থাকে, যাকে বলে ‘মিউটেশন’। কখনো কখনো এই নতুন রূপ নেয়া ভাইরাস আগেরটার চাইতে বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে থাকে। এটি এক মানবদেহ থেকে আরেক দেহে সহজে ছড়াতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে। করোনা ভাইরাস এভাবে মিউটেশনের মাধ্যমে নতুন চেহারা নিতে পারে বা নিচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই সচেতন ছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে বৃটেনে অন্তত ৬০টি জায়গায় করোনা ভাইরাসের নতুন ‘স্ট্রেইন’ এর সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুতগতিতে বাড়ার পেছনে এই নতুন রূপগ্রহণকারী ভাইরাসটিই দায়ী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে