করোনা পরিস্থিতিতে পল্লী চিকিৎসক ও জনসাধারণের করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0
297

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের প্রবীণদের স্বাস্থ্য সেবা এবং করোনা পরিস্থিতিতে পল্লী চিকিৎসক ও জনসাধারণের করণীয় শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা গত ৯ জুলাই শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মেডিসিন এর মহাসচিব এবং মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আহমেদুল কবির। আলোচনায় দেশ বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম শিশির (আমেরিকা) , স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, (ঢাকা) নাটোরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম আহমেদ (নাটোর),গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন (গুরুদাসপুর,নাটোর), বারিন্দ্ মেডিকেলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ বি কে দাম (রাজশাহী), রুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন (রাজশাহী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম (ঢাকা), সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সামাদ (বগুড়া),বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাঃ খলিলুর রহমান (পাবনা), গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেজবাহ (গুরুদাসপুর,নাটোর), বিটিআরএ পরিচালক ড. মোঃ সোহেল রানা, (ঢাকা), ড. মোঃ ইমরান হোসেন (কানাডা), খুবজিপুর এম হক কলেজের সহকারি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা (খুবজিপুর, নাটোর), এডি সফটের পরিচালক আব্দুল মান্নান (ঢাকা), এবং খুবজিপুর ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসকবৃন্দ।

অধ্যাপক ডাঃ আহমেদুল কবির তার বক্তব্যে বলেন বর্তমানে সারা বিশ্বের ন্যায় আমরা বাংলাদেশের  সব মানুষও মারাত্মক করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। এই মুহুর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে বাড়ীতে আলাদা ঘরে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। তার শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যার কারণে যদি অক্সিজেন দেওয়ার দরকার হয় তাহলে জরুরী ভিত্তিতে নিকটবর্তী উপজেলা স্বাথ্য কমপ্লেক্সে করোনা ইউনিটে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক, ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখার পরামর্শ প্রদান করেন। অধ্যাপক কবির আরো বলেন কারো জ্বর, কাশি বা করোনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেলে ধরে নিতে হবে তার করোনা হয়েছে। এজন্য তার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার দরকার নেই। করোনা রোগী হিসেবে তখন থেকেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। প্যারাসিটামলের পাশাপাশি তাকে দুএকটি সাধারণ ঔষধ দিতে হবে। বেশি বা দামী কোন ঔষধ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন অনেকে না জেনে না বুঝেই করোনা রোগীদের ভাল চিকিৎসার আশায় ঢাকা, রাজশাহী বা শহরের হাসপাতাগুলোতে নিয়ে যান। এতে তার সময়,শ্রম অর্থ সবই বেশি ব্যয় হয় কিন্ত তাতে কোন লাভ হয় না।কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে একটি বেডও খালি নেই। গ্রাম থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় যারা যান তাদের হাসপাতালের বেড না পেয়ে মেঝে বা বারান্দায় ঠাই হয়। ফলে প্রত্যাশিত চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

 

আমেরিকা থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম শিশির বলেন, করোনা একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এটার জন্য সবাইকে হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। যদিও শুরুতে এটাকে বড়লোক বা ধনীদের রোগ বলে অনেকে গুরুত্ব দিত না। অবহেলা করার কারণে এটি ধীরে ধীরে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকাতে এই রোগের প্রতিকার এবং মেডিসিন নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। পল্লী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আগে আপনারা নিজেরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন এরপর রোগীদের চিকিৎসা দিবেন। এলাকায় যারা অসুস্থ আছেন তাদের যাতে হাটে বাজারে না যেতে হয় সে জন্য তাদের খাদ্যসামগ্রী ফান্ডের মাধ্যমে সরবরাহের পরামর্শ তিনি প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন কবে এই রোগ পুরোপুরি নির্মুল হবে তা আমরা কেউ বলতে পারিনা, তাই সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার অভ্যাস করতে হবে।

নাটোরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম আহমেদ বলেন, আজকের এই আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করে তিনি নিজে অনেক বিষয়ে সমৃদ্ধ হয়েছেন। আমরা অনেক সহজ বিষয় জটিল করে ফেলছি। আমাদের সবাইকে সচেতন থেকে সাহসের সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। এ ধরনের আলোচনা আগামীতে জেলা এবং উপজেলা  প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে  আয়োজন করলে তিনি তার পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে  সহযোগিতা করবেন।    তিনি যাতে সম্মানের সাথে নাটোরে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন বলেন করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে মাস্ক, ঔষধসহ যা যা প্রয়োজন তিনি উপজেলা পরিষদের ফান্ড থেকে জরুরী ভিত্তিতে কেনার ব্যবস্থা করবেন। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কাপড়ের মাস্ক জনসাধারণকে বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নেয়া হয়েছে বলে  তিনি  উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভার সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইদুর রহমান দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেসব গুণী ব্যক্তিবর্গ ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবেলায় কাজ করার জন্য অনুরোধ কররেন । খুবজীপুর ইউনিয়নের যে সব প্রবীণ ব্যক্তি আছেন সুখে দুখে সব সময়  যাতে  তাদের পাশে থাকতে পারি সে জন্য তিনি সকলকে  উদাত্ত আহবান জানান। খুবজীপুর ইউনিয়নের পল্লী  চিকিৎসকদের তিনি  এই করোনাকালীন সংকটে গ্রামের মানুষদের পাশে থেকে সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করার জন্য   বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান।

আলোচনা সভায় আরও যুক্ত ছিলেন উপ-কর কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, মিরপুর সাইন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন রিপন, বগুড়া সরকারী মহিলা কলেজের  সহঃ অধ্যাপক মামুনুর রশিদ,  সেভেন রিংস সিমেন্টের জি এম শিবলী নোমানী সোহেল, বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সহঃ  অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম,   সাপ্তাহিক চলনবিল প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুল হক খোকন, ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিষ্ট্রার  ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মহিউদ্দিন প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে