কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আরও অর্থ দেয়া হবে -প্রধানমন্ত্রী

0
158
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির পেছনে না গিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারেন।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে (পিএমও) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ষষ্ঠ উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ হাসিনা বলেন, চাকরির পেছনে ছোটার মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ট্রাস্ট থেকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

যুব সমাজকে চাকরি করার চাইতে চাকরি দেয়ায় মনোযোগী হতে তিনি আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে আরও উন্নত করতে ট্রাস্ট গঠন করেছি।

গণহারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা দেয়ার বিষয়ে দ্বিমত ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা যেন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্র্ভরশীল হয়ে না পড়ে। উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তিনি এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনা দেন।

এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য সিড মানি হিসেবে আরও পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতিও দেন। এ লক্ষ্যে এর আগেও সরকার পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন সক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।

ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আখতারুজ্জামান, ইউজিসি চেয়ারম্যান (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আফরোজ ট্রাস্টের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বৈঠকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে ট্রাস্টের সিড মানি হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ড ট্রাস্ট থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে ৫৫০ দশমিক ৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ট্রাস্ট এ বছর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৯ হাজার ৬০০ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১১ দশমিক ৪০ কোটির অধিক অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে