নতুন নেতৃত্ব পেয়ে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা

কৃষক লীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন

0
121

৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো কৃষক লীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন। নতুন নেতৃত্ব পেয়ে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছাস আর উদ্দীপনা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সঙ্গে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো, কে হবেন দলের নতুন সভাপতি? সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতারা, কাউন্সিলর ডেলিগেটরা সম্মেলনস্থলে আসতে থাকেন। কারো মাথায় কৃষকের প্রতীক মাথাল, হাতে লাঙ্গল বা কাস্তি, কারো হাতে ব্যানার বা পোস্টার। সাজসাজ রব, মুখে প্রাণবন্ত হাসি আর উচ্ছাস নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হোন নেতা-কর্মীরা। অল্প সময়ে মধ্যেই তাদের পদচারণায় আর স্লোগানে মুখোরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কারণ দেশের দূর-দুরান্ত থেকে নেতা কর্মীরা রাতেই রওনা করে ছিলেন সম্মেলনের উদ্দেশ্যে।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবহিনীর কড়া পাহারায় ভিআইপিরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। সাধারণ নেতাকর্মীদেরও তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ভরে উঠে সম্মেলনস্থল। খ- খ- মিছিল নিয়ে আসেন অতিথি ও কাউন্সিলররা।
সরজমিনে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশের গেট দিয়ে নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীদের তল্লাশি করছেন। কারো কাছে গ্যাসলাইট কিংবা কোনো দাহ্য পদার্থ থাকলে তা রেখে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা বিভাগসহ (ডিবি) অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। শাহবাগ থেকে মৎস ভবন পর্যন্ত রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল এবং সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকে। এসময় আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে চলাচলের জন্য রাস্তা খুলে দেয়া হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের পাশের প্রবেশমুখ দিয়ে বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষক লীগের সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য পরবর্তী সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

গাজীপুর জেলায় সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন, সম্মেলনের জন্য মঙ্গলবার ঢাকা এসেছি। এখানে সকাল ৯টার দিকে প্রবেশ করেছি। আমার সঙ্গে মোট ৬০ জন নেতাকর্মী সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। এটা আমাদের ১০ম জাতীয় সম্মেলন। খুব কাছে থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেখতে পারবো এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।

নেত্রকোণা জেলার কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুল হাসান শাহীন বলেন, আমরা চাই দলের জন্য যে কাজ করবে তাকে নেতৃত্ব দেয়া হোক। আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের যারা খবর নিবেন এই রকম নেতা নেতৃত্ব আসলে ভালো হবে।

নাটোর থেকে আসা নুরুল আমিন নামের একজন কৃষকলীগ কর্মী বলেন, মঙ্গলবার রাতেই রওনা দিয়ে ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছে যাই। সম্মেলনের উদ্দেশ্যেই এতো কষ্ট করে ঢাকায় আসা। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে একটু দেখার সুযোগও হবে। আজ তার কাছ থেকে যে নির্দেশনা পাবো তাতে আমাদের সাংগঠনিক কর্ম কর্মতৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। নতুন নেতৃত্বে দল আরও চাঙ্গা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সম্মেলনস্থলকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে