খুবজিপুর স্কুল প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

0
59

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল স্মরণসভা গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের প্রয়াত দুইজন প্রধান শিক্ষক  শ্রী গৌরচন্দ্র কর্মকার এবং আলী আক্কাস মিয়া স্যারের স্মরণে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন  বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, নাটোর-৪  ( বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিষ্ট্রার এস এম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই ভার্চুয়াল স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, খুবজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আজগার হোসেন, খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান, এডি সফটের পরিচালক আব্দুল মান্নান,  খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র তরফদার, পেট্রোবাংলার সাবেক জিএম আব্দুর রাজ্জাক, পারটেক্স গ্রুপের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ,  গ্রামীণ ফোনের টেরিটোরি অফিসার সায়েকুল ইসলাম সেন্টু, মিরপুর সাইন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন রিপন, সেভেন রিংস সিমেন্টের এজিএম শিবলী নোমানী সোহেল, চলনবিল প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুল হক খোকন,  পিপলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদ সরকার, খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথি অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, তিনি যখন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তখন এটি ছিল মাইনর স্কুল। তিনি একবছর এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের প্রতিবছর ঈদ পরবর্তী এই আলোচনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, গুরুদাসপুর উপজেলায় আরো অনেক নামকরা স্কুল থাকলেও কোন বিদ্যালয়ে এরকম প্রাক্তন ছাত্রদের কোন সংগঠন নেই। যারা স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক   বিষয় নিয়ে ভাবে ও আলোচনা করে। এক্ষেত্রে খুবজিপুর হাইস্কুল ব্যতিক্রম। তিনি বলেন করোনা পরিস্থিতি না থাকলে হয়তো আমরা সশরীরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আলোচনা করতে পারতাম। প্রয়াত শিক্ষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গৌড় চন্দ্র তার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি মোবারক স্যারের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলী আক্কাস স্যারসহ প্রয়াত সব শিক্ষকের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

খুবজিপুর অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ কমপ্লেক্সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন বাংলাদেশের অন্য কোথাও এমন সুন্দর পরিবেশ আর  নাই। একই জায়গায় প্রাইমারী স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, মাদ্রাসা, মসজিদ ,হাসপাতাল, পাঠাগার সব মিলিয়ে এমন কমপ্লেক্স  বাংলাদেশে বিরল। তিনি বলেন এই কমপ্লেক্সের সব প্রতিষ্ঠানে তিনি অতীতে যেভাবে সাহায্য সহযোহিতা করেছেন ভবিষ্যতে তিনি করবেন এবং তা সব সময়  অব্যাহত থাকবে বলে তিনি  উল্লেখ করেন।

তিনি খুবজিপুর ইউনিয়নে প্রবীণদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তার  প্রশংসা করে তিনি বলেন এ ধরনের উদ্যোগও বাংলাদশে আর কোথাও নেই। তিনি এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমানের উদ্যোগের প্রশংসা  করে বলেন সবাই যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এগিয়ে আসেন তাহলে আমাদের এই সমাজ আরো সুন্দর হতো। অসুস্থ্য, প্রবীণ, যারা অবহেলিত, যাদের পরিবারের বোঝা হিসেবে মনে করা হয়,  তারা শেষ বয়সে আরও ভাল থাকতে পারবে। তিনি এই উদ্যোগকে একটি মডেল হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত করার  কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবার এই ফান্ডে দুই লক্ষ টাকা প্রদান করার কথা ঘোষণা করেন।

খুবজিপুরের কাংখিত উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তিনি মরহুম অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ সাহেবের কথা শ্রদ্ধার সাথে   স্মরণ  করেন।  পাশাপাশি তিনি এই অঞ্চলের কৃতি সন্তান ইঞ্জিঃ সোহরাব হোসেন,  ডাঃ সিরাজুল ইসলামসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন আমাদের বড় পরিচয় আমরা চলনবিলের সন্তান। আগে চলনবিলে রাস্তা ঘাট ছিলনা। মানুষের দুঃখ দুর্দশার অন্ত ছিলনা। কিন্ত আজ চলনবিল উন্নয়নের মডেল হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে। এলাকার উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। চলনবিলের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   তিনি বৈশ্বিক মহামারী করোনা মোকাবেলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমা্ন খুবজিপুর স্কুলের প্রয়াত শিক্ষকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁদের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বর্তমান শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে  বলেন করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। যাদের ক্লাশ করার সামর্থ রয়েছে তাদের অনলাইনে ক্লাশের ব্যবস্থা করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি জোর দেন। তিনি খুবজিপুর ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তিদের নিয়ে চলমান কার্যক্রমে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহবান জানান। একজন প্রবীণ ব্যক্তিও যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে সকলের খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।

 

আলোচনা সভায় আরো যুক্ত ছিলেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. খলিলুর রহমান, খুবজিপুর এম হক কলেজের সহকারি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ও আব্দুস সামাদ, রহিম আফরোজ গ্রুপের পরিচালক রফিকুল ইসলাম মানিক, বিটিআরসি পরিচালক ড. মোঃ সোহেল রানা, অধ্যাপক মামুনুর রশিদ, বিয়াম কলেজের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে