গুরুদাসপুরে ‘চলনবিল বিষয়ক সাংগঠনিক সভা’ অনুষ্ঠিত

0
130
গুরুদাসপুর প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন-এর যৌথ আয়োজনে গত  ২২ জানুয়ারি শনিবার বেলা ১১টায়  গুরুদাসপুর উপজেলার  কাছিকাটা টোলপ্লাজা সংলগ্ন রানীগ্রাম আরডিও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট চত্বরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ‘চলনবিল বিষয়ক সাংগঠনিক সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।
চলনবিল রক্ষা আন্দোলন জাতীয় কমিটির সদস্য মো. আফজাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি সমস্যা এবং উত্তরণ সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন দেন চলনবিল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব ও সভার প্রধান আলোচক এস. এম. মিজানুর রহমান।
আলোচনায় অংশ নেন চলনবিল রক্ষা আন্দোলন চারঘাট উপজেলার পরিবেশবাদী আবুল কালাম আজাদ, বাঘা উপজেলার পরিবেশবাদী ফরজ আলী, বাগাতিপাড়া উপজেলার পরিবেশবাদী আব্দুল করিম, বড়াইগ্রাম উপজেলার পরিবেশবাদী অধ্যাপক আমিনুল হক মতিন, চাটমোহর উপজেলার পরিবেশবাদী কে. এম. বেলাল হোসেন স্বপন, ভাঙ্গুড়া উপজেলার পরিবেশবাদী গুলশাল আরা লিপি, ফরিদপুর উপজেলার পরিবেশবাদী আব্দুল হাই, উল্লাপাড়া উপজেলার পরিবেশবাদী এ. আর. জাহাঙ্গীর, আরডিও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর অধ্যক্ষ মো. খাইরুল ইসলাম।
আরও বক্তব্য দেন বগুড়া’র পরিবেশবাদী জিয়াউর রহমান, পুঁঠিয়া উপজেলার পরিবেশবাদী কয়েস উদ্দিন, রায়গঞ্জ উপজেলার পরিবেশবাদী দীপক কুমার কর, তাড়াশ উপজেলার পরিবেশবাদী আব্দুর রাজ্জাক রাজু, গুরুদাসপুর উপজেলার পরিবেশবাদী আলী আক্কাস, আত্রাই উপজেলার পরিবেশবাদী ফরিদুল ইসলাম, সিংড়া উপজেলার পরিবেশবাদী ডেইজি আহমেদ, পাবনা’র পরিবেশবাদী আব্দুল হামিদ খান, বড়াইগ্রাম উপজেলার ডি এম আলম  , হবিগঞ্জের পরিবেশবাদী তোফাজ্জল হোসেন সোহেল, সিলেটের পরিবেশবাদী আব্দুল করিম কিম প্রমূখ।
আলোচনায় বক্তাগণ বলেন, চলনবিলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন, অপ্রয়োজনিয় স্লুইচ  গেট নির্মাণ, ক্রস বাঁধ, পাকা সড়ক, রাবার ড্যাম, কলকারখানার বর্জ্য, খাল-বিল বেদখল, ব্যক্তি স্বার্থে অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি এবং কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখীন। বক্তাগণ আরও বলেন, গণ আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। ধারাবাহিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রতিটি পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ‘উন্নতদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনাঞ্চল, জলাশয় রক্ষা করে বৃহত্তর ফ্লাইওভার করা হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অপরিকল্পিত। ফলে দেশের প্রাকৃতিক, বনাঞ্চল এবং চলনবিলের মত উন্মুক্ত জলাশয় গুলো উন্নয়নের নামে খন্ড বিখন্ড করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাপা স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন।আপনারা নদীকে ভালোবাসেন, চলনবিলকে ভালোবাসেন, অতীতে ভালো কিছু দেখেছেন বলেই আপনারা আন্দোলন করতে এসেছেন। দেশে সমস্ত নদী এখন ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। এতে করে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে চলনবিল রক্ষায় আন্দোলন করতে হবে।’
শরীফ জামিল আরও বলেন, ‘একমাত্র গণ আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারলে এখনও চলনবিলকে রক্ষা করা সম্ভব। রক্ষা করতে না পারলে কিছুদিনের মধ্যে চলনবিলাঞ্চলের মানচিত্র বদলে যাবে। আপনারা স্থানীয় ইস্যূ ভিত্তিক আন্দোলন শুরু করেন, কিন্তু চলনবিলকে সাথে রাখুন। আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেন। পরিবেশ সপক্ষের সংগঠন গুলোকে আন্দোলনে অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে। আপনাদের লেগে থাকতে হবে।’
সভার শুরুতে প্রয়াত পরিবেশবাদী চাটমোহর উপজেলার ডা. অঞ্জন ভট্টাচার্য্য, গুরুদাসপুর উপজেলার অধ্যাপক আতাহার আলী ও রায়গঞ্জ উপজেলার খোরশেদ আলমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভাটি সঞ্চালনা করেন চলনবিল রক্ষা আন্দোলন গুরুদাসপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিবেশবাদী মজিবুর রহমান মজনু।
সভায় চলনবিল অধ্যূষিত রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ জেলার ১২টি উপজেলা থেকে আন্দোলন কমিটির অন্তত: ৪০ জন আন্দোলনকারী অংশ গ্রহণ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে