গৌরবের বিজয় উৎসব চলছে রাজধানীজুড়ে

0
172
জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের নিয়ে স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ছবি: সংগ্রহিত

এ দৃশ্য চিরচেনা। রাজপথে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি, যেখানে সবুজের মাঝে লাল সূর্য। রাজপথে ছুটে চলা যানবাহন, অফিস কিংবা বসতবাড়ির চিলেকোঠায় উড়তে দেখা যাচ্ছে এই লাল-সবুজ পতাকা। এসব দৃশ্য জানান দিচ্ছে বিজয় দিবস আসন্ন। কাল সোমবার জাতির গর্বের দিন, বিজয় দিবস।

বাঙালির চিরগৌরবের এই দিনকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন। প্রতিদিন বিকেল থেকেই বিজয়ের গান, নাচ, কবিতা আর নাটকে মঞ্চগুলো জমজমাট। এ ছাড়া রোববার ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের নানা আয়োজন। বিভিন্ন সংগঠনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা।

আজ রোববার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের নিয়ে স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণা পর্বে অংশ নেন সুরকার ও যন্ত্রশিল্পী জাহাঙ্গীর হায়াত খান, কণ্ঠশিল্পী কল্যাণী ঘোষ, রফিকুল আলম ও অনুপ ভট্টাচার্য। আলোচনায় অংশ নেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত খবর পরিবেশন করেন আবৃত্তি শিল্পী আশরাফুল আলম।

স্বাধীন বাংলা বেতারের গানে গানে সাজানো ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ ও ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর’ গানটি পরিবেশন করে ঢাকা সাংস্কৃতিক দল। সোহেল রহমানের পরিচালনায় ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ ও ‘নোঙর তোল তোল’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে একাডেমির নৃত্যদল। এ ছাড়া কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় ‘কারার ওই লৌহকপাট’ গানের সুরে পরিবেশিত সমবেত নাচ। ‘ও আমার দেশের মাটি’ গানটি শোনান কাদেরী কিবরিয়া। এ ছাড়া একক কণ্ঠে রূপা ফরহাদ পরিবেশন করেন ‘চাঁদ তুমি ফিরে যাও, দেখো মানুষের খুনে রক্তিম বাংলা’ মলয় কুমার গাঙ্গুলির কণ্ঠে গীত হয় ‘আরে ও বাঙালি’ তিমির নন্দী গেয়ে শোনান ‘ভেব না গো মা,। শাহীন সামাদ পরিবেশন করেন ‘ওরে শোন বাঙালি’, ফকির আলমগীর গেয়েছেন ‘রুখে দাঁড়াও রাখিতে সম্মান’। একক কণ্ঠে আরও গান শুনিয়েছেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, অরূপ রতন চৌধুরী, মো. রফিকুল আলম, ডালিয়া নওশিন, মো. রেজাউল করিম, বুলবুল মহলানবীশ প্রমুখ।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব: সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ‘বিজয়ের অঙ্গীকার সাংস্কৃতিক অধিকার’ স্লোগানে চার দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের তৃতীয় দিন ছিল আজ। বিকেল থেকে রাত অবধি রাজধানীর নানা প্রান্তের পাঁচটি মঞ্চে হয়েছে বিজয়ের অনুষ্ঠানমালা। শীতের বিকেলে স্বদেশের গানের সুরের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আয়োজনে। রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের আলোড়িত করা গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা, রুখবে তাদের কারা’। উপস্থাপন করে ভিন্নধারার শিল্পীরা। স্বভূমি শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আমরা সবাই বাঙালি’। এ ছাড়া দলীয় সংগীত পরিবেশন সংস্কৃতি মঞ্চ ও নিবেদন। একক কণ্ঠে মহাদেব ঘোষ শুনিয়েছেন ‘ও আমার দেশের মাটি’। রিনা ফেরদৌসী গেয়েছেন ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো’।

অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন কিমিয়া যোয়ারদার, শরণ বড়ুয়া ও সালমা চৌধুরী। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্রোত আবৃত্তি সংসদ, মুক্তবাক ও শ্রুতিঘর। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন তিতাস রোজারিও, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী ও মিজানুর রহমান সজল। শিশুসংগঠন পরিবেশনা উপস্থাপন করে রঙ্গপীঠ শিশুদল ও শিল্পবৃত্ত। দলীয় নৃত্য পরিবেশন কত্থক নৃত্য সম্প্রদায় ও মাস্টার মাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিল্পীরা। পথনাটক পরিবেশন করে খেয়ালী নাট্য গোষ্ঠী ও আরণ্যক।

এর বাইরে রবীন্দ্রসরোবরে জোটের বিজয় উৎসব মঞ্চে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ছায়ানট ও ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী। একক সংগীত পরিবেশন করেন বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, ফকির সিরাজ, মাহজাবীন শাওলী ও নিলুফার বানু লিলি। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বনন ও স্বরশ্রুতি। একক আবৃত্তি পরিবেশন ডালিয়া আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন ও অনন্যা লাবনী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সুরবিহার, বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস ও স্বপ্ন বিকাশ কলাকেন্দ্র। পথনাটক পরিবেশন করে বৃত্ত নাট্যদল ও সুষম নাট্য সম্প্রদায়। শিশুসংগঠন পরিবেশনা উপস্থাপন করে কল্পরেখা ও মৈত্রী চিলড্রেন থিয়েটার ট্রুপস। এ ছাড়াও এদিন রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চ এবং দনিয়া ও মিরপুর মঞ্চের বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিজয় উৎসব: ৯ ডিসেম্বর থেকে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আট দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের সপ্তম দিন ছিল আজ। এদিনের বৈকালিক আয়োজনে ছিল তেজগাঁও সরকারির উচ্চবিদ্যালয় এবং তেজগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ব্যান্ড বাদন। সম্মেলক সংগীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় কিংশুক পার্টিসিপেটারি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ভাষানটেক সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। সবশেষে মঞ্চস্থ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ পরিবেশিত নাটক ‘জেরা’। ফরিদ কামিলের ভাবনায় তারিক আনাম খানের রূপান্তরিত প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে