গ্রাহকদের কাছে সময় চাইলেন ইভ্যালির এমডি রাসেল

0
65

স্টাফ রিপোর্টার: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল মুখ খুলেছেন। আজ শুক্রবার রাতে (১৬ জুলাই) তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি পোস্ট শেয়ার করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।

“ইভ্যালির পক্ষে বিপক্ষে অনেক মতামত সোস্যাল মিডিয়াতে পেয়েছি এবং দেখেছি। এতদিন ইভ্যালির যে লস সেটা শুধুমাত্র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এর এই ইনভেস্টমেন্ট গিয়েছে। এখন ইভ্যালির অর্গানিক সেলস অনেক বেড়েছে। অনেকে এই সময় মতামত দিচ্ছেন বন্ধ করে পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করা হোক।

কিন্ত এখন তো আমরা অগ্রিম টাকা পাই না। গত দুই সপ্তাহ কিভাবে তাহলে পুরাতন অর্ডার থেকে 40cr টাকার অধিক ডেলিভারি করা হলো?
আমরা বড় বড় সেলার দের 4000cr + পেমেন্ট দিয়েছি। তারা আমাদের পাশে থাকতে চান। কিন্ত মিডিয়া অথবা সোস্যাল মিডিয়া যখন ডেসটিনি এর মত কোম্পানির সাথে তুলনা করেন তখন যে কেউ ই ভয় পেয়ে যান। আমরা বিজনেস সবাই বুঝি। এটা একটা চলমান সম্পর্কে থাকার বিষয়। সেলস থাকলে সেলার থাকবে। এবং সেলার থাকলে পণ্য থাকবে।

আমাদের এই বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এ সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দেশি অথবা বিদেশি বিনিয়োগ। কেউ কি আমাকে দয়া করে কোনো আইনী ধারা উল্লেখ করতে পারেন যেটি হয়তো আমার অজান্তেই মিস করে গেছি। যে কারণে আপনি বলতে পারেন ইভ্যালি অবৈধ। ( আমি এই সংক্রান্ত বিস্তারিত আরো লিখব)।

যদি নাই হয়, মিডিয়ায় অথবা সোস্যাল মিডিয়ায় আমাকে ক্রিমিনাল না বানিয়ে বিচার না করার অনুরোধ করতে পারি শুধু।

আমি বাংলাদেশের সব বড় গ্রুপ এখন যাচ্ছি। আমার হয়তো পুজি ঘাটতি। কেউ পুজি দিলেই কিন্ত কাল আমাকে সবাই হিরো বলত।

যেই জিনিস টা ইভ্যালি অর্জন করতে চেয়েছিল ইভ্যালির একদম সেটার দারপ্রান্তে। এতো কিছুর পর নতুন নীতিমালার আলোকে ইভ্যালির সেলস 100cr টাকা (পেইড)। এই সময় এসে গঠনমূলক অথবা পরামর্শমূলক আলোচনা অবশ্যই সবার উপকার হবে।

ইভ্যালি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। এবং এর চেয়েও বেশি আশাবাদী ইকমার্স নিয়ে। বিদেশী Amazon আসলে আমরা খুশি হব স্বাভাবিক। কিন্ত দেশের কেউ ইকমার্স লিড দিবে এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত। কারণ আমরা এখন সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল জাতি। আমাদের একটু সময় দিন”

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রি নিয়ে আলোড়ন তোলে সংস্থাটি। কীভাবে এত ছাড় দেওয়া হয়, সেই কৌশল ক্রেতা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কারো কাছে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিদেশযাত্রায় আদালতের অনুমতিক্রমে দুদক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেও।

সে অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে অনুসন্ধান করেছে দুদক। এমন পরিস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেকোনো সময় তাদের ডাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

জানা গেছে, ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত নভেম্বরে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান চলাকালীন গত ৮ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আসে। যেটা চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এখন অনেক তথ্য উপাত্ত জোগাড় করেছে।

এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা ভয়ের মধ্যে আছেন। কারণ ইভ্যালি পণ্য ডেলিভারি দিতে দেরি করছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। এছাড়া অনেকের রিফান্ডও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখারও অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। ইভ্যালির সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করে বন্ধ পাচ্ছেন তারা। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির অফিসেও তালা ঝুলছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে