গ্রেনেড হামলার কথা আগেই শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলাম: সাঈদ খোকন

0
31

অনলাইন ডেস্কঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আশঙ্কার কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগেই জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

সাঈদ খোকন বলেন, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করতে আব্বা (মেয়র মোহাম্মদ হানিফ) আমাকে তার (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়েছিলেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা, স্মৃতির পাতা থেকে জানা অজানা দুই একটি কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী।

খোকন বলেন, আমার বাবা মোহাম্মদ হানিফ তথ্য পেয়েছিলেন কিছু একটা হতে পারে। আমাকে সুধাসদনে পাঠিয়েছিলেন নেত্রীকে বার্তা পৌঁছে দিতে। নেত্রী সাংগঠনিক সফর শেষে সুধাসদনে আসেন এবং বিশ্রাম নেন। কারো সঙ্গে দেখা করছিলেন না। রাত তখন ১০টা পেরিয়ে গেছে। আমি সুধাসদনে উপস্থিত হই। প্রয়াত বজলু ভাইয়ের মাধ্যমে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম। তাকে জানালাম, আপনাকে জানানোর জন্য আব্বা আমাকে পাঠিয়েছেন। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একটি আশঙ্কাজনক বার্তা আপনাকে পৌঁছে দিতে হবে।

হানিফপুত্র বলেন, আমি নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) বললাম, একটা সম্ভাব্য হামলা চূড়ান্ত হয়েছে। সূত্রমতে, হামলাকারীরা ঢাকার ভেতরে চলে এসেছে। তাদের সম্ভাব্য হামলার স্থান সুধাসদনের এই বাসা, আপনার যাতায়াতের পথ এবং আমাদের অনুষ্ঠানস্থল। আব্বা বলেছেন, যে কোনোভাবেই হোক আপনাকে আমাদের বাসায় (নাজিরাবাজার) চলে যেতে। এখানে আপনি নিরাপদ নন। আমি আরও বললাম, আপনারও (শেখ হাসিনা) অনেক সূত্র থাকতে পারে। আপনি একটু কনফার্ম করে নেন। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

খোকন বলেন, পরে নেত্রী কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটু হেসে বললেন, এত ভয় পেলে কি রাজনীতি হয়? আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এ দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনের সামান্য মায়া তার চেহারায় দেখতে পাইনি। কত বিশাল সাহসের অধিকারী একটা মানুষ তিনি। নেত্রী আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিলেন। বললেন, দেখা যাবে কী হয়।

সাঈদ খোকন আরও বলেন, আমি নিচে এসে বসে রইলাম। আমার মন মানে না। সুধাসদনে আক্রমণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আমি দীর্ঘসময় সেখানে বসে রইলাম। মন চাচ্ছিল না এ অবস্থায় চলে যেতে। নেত্রী আমার কাছে খবর পাঠালেন, বাসায় চলে যেতে। পরের দিন অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রথম বোমাটি এসে পড়ল ঠিক আমার কাছাকাছি। মনে হলো দুটি পা ঝলসে গেল। এক লাফে ট্রাকের মধ্যে উঠে গেলাম। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না আমার পা আছে কি নেই। আমার বাবা মানবঢাল তৈরি করে নেত্রীকে বাঁচালেন। তার শরীরে স্প্লিন্টারের অনেক আঘাত ছিল। মাথা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছিল। তাকে বাঁচাতে পারিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এমন একটি হামলা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হলো। তিনি এখন লন্ডনে আয়েশ করে জীবনযাপন করছেন। তার শুধু যাবজ্জীবন নয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় পুনর্বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

একজন আহত ও বাবাহারা পরিবারের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে এটাই তার একমাত্র দাবি বলে জানান হানিফপুত্র সাঈদ খোকন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে