চকবাজার ট্র্যাজেডির এক বছর

0
123

রাজধানীর চকবাজার ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল। স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুরিহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের ভবনে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ৭১ ব্যক্তি।

ভবনটিতে ছিল রাসায়নিক পদার্থের গুদাম। অবাক হওয়ার মতো কথা, এ চকবাজার ট্র্যাজেডির পর এক বছর অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ করতে পারেনি।

ফলে মামলার চার্জশিটও দিতে পারেনি। মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ৭১ জনের সবারই ময়নাতদন্ত শেষ করতে পারেনি, এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলেও তাদের ঠিকানা জানা যায়নি।

তাদের নাম-ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। আমাদের কথা হল, এ সবই খোঁড়া যুক্তি। কারণ সময় পেরিয়ে গেছে এক বছর। এত দীর্ঘ সময় পর এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে চকবাজার ট্র্যাজেডির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেয়া হবে আদালতে।

আমাদের মনে আছে, ২০১০ সালের জুনে পুরান ঢাকার নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১২০ জনেরও বেশি নারী-পুরুষ। সেই অগ্নিকাণ্ডেরও কারণ ছিল রাসায়নিক পদার্থ।

নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে ফেলার দাবি উঠেছিল জোরেশোরে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।

কিন্তু কাজটি এখনও শেষ হয়নি। পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদামের কারণে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড লেগেই আছে। গত বছর ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক তৈরির কারখানায় আগুন ধরে গেলে মৃত্যু হয় ১০ জনের।

বস্তুত বারবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও বদলায়নি পুরান ঢাকার দৃশ্যপট। ঘনবসতিপূর্ণ আর ঘিঞ্জি এলাকায় অনেক বাসাবাড়ির নিচে এখনও ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের কেমিক্যাল সামগ্রী।

পুরান ঢাকার দৃশ্যপট না বদলালে আবারও যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এ প্রসঙ্গে সরকার কর্তৃক গঠিত ছয়টি তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম ও কারখানা অচিরেই সরিয়ে নেয়া হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আর তা না হলে আমাদের বারবারই প্রত্যক্ষ করে যেতে হবে অগ্নিকাণ্ডের ট্র্যাজেডি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে