চলনবিলে সরিষা ফুলের সমারোহ, বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

0
177

তাড়াশ প্রতিনিধি: চলনবিল এলাকাজুড়ে সরিষার ক্ষেত হলুদ ফুলে একাকার হয়ে গেছে। কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও। কিন্ত যত্রতত্র পুকুর খনন করার ফলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এ বছর সরিষা আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। কারণ মাঠ থেকে পানি নামতে দেরি হওয়াতে এবং কোনো কোনো মাঠে জলাবদ্ধতার জন্য জমির জো আসতে দেরি হয়েছে।

এ বছর চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুরসহ উপজেলার মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সরিষা আবাদে তেমন কোনো পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তুলনামূলক এ বছর সরিষার আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। তাছাড়া সময়মত সার-কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সরিষার আবাদ করতে কৃষকের কোনো প্রকার বেগ পেতে হচ্ছে না।

তবে এ বছর তাড়াশ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় সরিষা আবাদ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া তুলনামূলক কম আবাদ হয়েছে। অনেক কৃষক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন নিজে মাঠে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলায় পাঁচ দফা বন্যার পানি আসায় মাঠে থেকে পানি নামতে দেরি হয়েছে। আবার মাঠের মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণেই অনেকেই সরিষা বীজ ফেলতে পারেননি। তাই এ বছর সরিষা আবাদ গতবারের তুলনায় কম হয়েছে। এ বছর এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত চার হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, একসময় চলনবিলের কৃষকরা শুধু ইরি-বোরো এক ফসলি আবাদ করে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত রাখত। কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষকদেরও বুদ্ধির বিকাশ ঘটেছে।

তাড়াশ উপজেলার ধাপ-তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, সাত বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। কিন্তু বিলের পানি সঠিক সময়ে না নামায় অনেক দেরিতে সরিষা বীজ রোপণ করেছি। তাই গতবারের চেয়ে এ বছর হয়তো খুব ভালো ফলন হবে না।

বাশবাড়িয়া গ্রামের মামুন হোসেন বলেন, চার বিঘায় সরিষা আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বিশেষ করে এখন পর্যন্ত কোনো পোকার আক্রমণ দেখা দেয়নি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবার প্রতি বিঘা জমিতে চার-ছয় মণ হারে, এমনকি তারও বেশি সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, এ বছর কৃষককে সরিষা চাষে ব্যাপক সচেতন করা হয়েছে। সরিষা চাষের পদ্ধতি ও পোকার আক্রমন হলে কী করণীয় সে বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করেছেন। তাছাড়া কর্মকর্তারা সব সময় মাঠে থেকে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে