চলনবিলে বাদাই ও চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন

0
66

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: চলনবিলে বাদাই ও চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন করা হচ্ছে। জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে সাপ, কুইচা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুকসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণী। এতে হুমকিতে পড়েছে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিল পাড়ের ভিটা কাজীপুর, কচুগাড়ী, চামটা, দয়ারামপুর, বোয়ালমারী , ধারাবারিষা গ্রাম সংলগ্ন  খুলুগাড়ী, গরিলা, আফরা, কৈখোলা, খলিশাগাড়ী, মগরগাড়ী, চেঁচির বিলসহ বিস্তীর্ণ মাঠ, ডোবা, নালা, খাল সব জায়গাতেই  বাদাই ও চায়না দুয়ারী জাল পেতে মাছ ধরছেন জেলেরা। বেশিরভাগ জালে মাছের চেয়ে অন্যান্য জলজ প্রাণী আশঙ্কাজনকহারে মারা পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জেলে বলেন, চায়না দুয়ারী জালে খুব ছোট দারকিনা, মলা, ইচা, চান্দা, খলিশা, পুঁটি, টেংরা, বাতাসি মাছ থেকে শুরু করে বড় শোল, বোয়াল, গজার কোন মাছের রেহাই নেই। বেশিরভাগ জালে মাছের চেয়ে সাপ, কুইচা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধরা পড়ে। এসব থেকে তারা মাছ ও কুইচা বিক্রি করছেন। বাকি অসংখ্য জলজ প্রাণী মেরে ফেলা হচ্ছে।

এদিকে চলনবিল অঞ্চলের মৎস্য চাষিরাও চায়না দুয়ারী জাল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এই জাল পুকুরে পেতে রেখে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এক পুকুরের প্রায় সব মাছ সাবাড় করে দেওয়া সম্ভব। জানা গেছে, চায়না জালের দুপাশে দুহাত পর পর লোহার তৈরি গোল রিং পড়ানো থাকে। তার মাঝখানে এক হাত পর পর ৩০ টির মতো চারকোনা রিং পড়ানো। চারকোনা রিংয়ের মাঝে একটি করে দুয়ার রয়েছে। এসব দুয়ার দিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণী একবার ঢুকে পড়লে বেড় হতে পারেনা। এই জালের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো পানির তলদেশে লম্বালম্বিভাবে পড়ে থাকে। ফলে কোন প্রকার খাদ্য দ্রব্য ছাড়াই দুই দিক থেকে মাছ ও জলজ প্রাণী জালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। চায়না দুয়ারী জাল দেখতে অনেকটা ঢলুকের মতো। এই জাল অনেকের কাছে ঢলুক জাল নামেও পরিচিত।

এ প্রসঙ্গে চলনবিলের ভিটা কাজীপুরের সন্তান, রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, কৃষিবিদ এস এম হাসানুজ্জামান বলেন , চায়না দুয়ারী জালে দেশীয় প্রজাতির সব মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। এর মধ্যে বিপন্ন প্রজাতির অনেক মাছ ও জলজ প্রাণীও রয়েছে। জেলেরা মাছ ও কুইচা বিক্রি করছেন। এরপর সাপ, কুইচা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুকসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণীই তারা মেরে ফেলছেন। ফলে সেসব মাছ ও জলজ প্রাণী বংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারছে না। এতে বিলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

কচুগাড়ীর ইউপি সদস্য ইনামুল হক প্রিন্স বলেন, মাস দুয়েক আগে একবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তখন কিছু জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।

জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, আমরা কয়েকবার বাদাই ও চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। তার ফলে  কিছুদিন বাদাই ও চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ ছিল।  অনেক সময় রাতের বেলা এগুলো দিয়ে মাছ ধরলে আমরা পাহারা দিতে রাখতে পারিনা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি নিজে এবং পুলিশসহ কয়েকবার জোনাইল ইউনিয়নের বিলে অভিযান পরিচালনা করে জাল জব্দ করেছি। এখন পানি কমে যাওয়ার কারণে বাদাই ও চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা কমে গিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে