চাটাইয়ের বেড়ার বাড়িতে থাকেন চার বারের বিধায়ক মেহবুব আলম

0
120

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের বিধায়ক মেহবুব আলম যেন এক ভিনগ্রহের বাসিন্দা। ভিধান সভায় চারবার জিতেও পাকা বাড়িতে নয়, থাকেন চাটায়ের বেড়ার কাঁচা বাড়িতে। কিছু কৃষি জমি ছাড়া কোনো সম্পত্তিও নেই। ভোটের হলফনামা অনুসারে তার সম্পত্তি শূন্য। অর্থ বলতে কিছু নেই, দিন আনি দিন খাইয়ের সংসার। তবে এত অভাব সত্ত্বেও তার যেটার অভাব নেই তা হলো সম্মানের। সততাকে পুঁজি করেই তিনি এই মুহূর্তে বিহারের সবচেয়ে বেশি ভোটে জেতা বিধায়ক।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি চার বারের বিধায়ক। এবারও বিহারের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জিতেছেন মেহবুব আলম। অথচ বিহারের সবচেয়ে সাদামাটা জীবনযাপন করেন সেই বাম প্রার্থীই। এখনও থাকেন পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বলরামপুর কেন্দ্রের এক অজ পাঁড়াগাঁয়ের কাঁচা বাড়িতে। দুই ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে সরকারি স্কুলে। আর সেটাই তার বার বার ভোটে জয়ের ‘জিয়নকাঠি’ বলে মনে করেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা।

শ্রমিক, মজদুর, মেহনতি মানুষের কথা বলে বাম রাজনীতির আদর্শ। সেই আদর্শেই কি এমন সহজ-সরল দিনযাপন? সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর নেতা হয়েও মেহবুব বলেন, মার্কস-লেনিনের আদর্শে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যই তার এমন সাদাসিধে দিনলিপি।

জয়ের জন্য ‘কমরেড’দের ধন্যবাদ দিয়ে মেহবুব বলেন, আমি খুব সরল জীবনযাপন করি। এটা বামপন্থার জন্য নয়, বরং আদর্শের লড়াই। আমার বিধানসভা এলাকায় অনেক মানুষকে দু’বেলা খাবারের জোগাড় করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। সেখানে আমি বিত্ত-বৈভবে দিন কাটাব, এটা ভাবতেও পারি না।

কিন্তু বিধায়কের মাসিক বেতনের টাকা? বামপন্থী নেতাদের মতোই মেহবুব বলেন, বিধায়ক হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পাই। তার প্রায় সবটাই যায় দলের তহবিলে।

এবারের নির্বাচনেও মেহবুব জিতেছেন ৫৩ হাজার ৭৮ ভোটে। ২০১৫ সালেও জিতেছিলেন। তার আগে আরো দু’বার। এবার পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট। বিহারের আর কোনো প্রার্থী এত বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতেননি।

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মেহবুবের এই জীবনধারা শুধু যে বাম রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠসে বসে ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তার সময় কাটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিহারের ভোটের পর থেকেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে