চার মূলনীতির সাথে কোন আপস মেনে নেব না: বাদশা

0
85

রাজশাহী প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, সংবিধানে থাকা চার মূলনীতির ব্যাপারে কোন ধরনের আপস তারা মেনে নেবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে যে চার মূলনীতি দিয়ে গেছেন সে মোতাবেক দেশ পরিচালনা করতে হবে।

রোববার বিকালে রাজশাহীতে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সম্মেলন ও ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদ চত্বরে এই সমাবেশের আয়োজন করে জেলা ও মহানগর ছাত্রমৈত্রী।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা দেখলাম পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা বাজানো হয়েছিল। চার মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রকে বাদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের চার মূলনীতি ছিল। এই আদর্শকে ধরেই আমরা অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। চার মূলনীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু যে ব্যাখা দিয়েছিলেন সেই ব্যাখাকেও আজকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার জীবদ্দশায় চার মূলনীতি যদি বাস্তবায়িত না হয়, যদি মৃত্যুর পরও চার মূলনীতি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমার আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করছি। কিন্তু তার রাজনৈতিক আদর্শ কি আমরা ধারণ করছি? সেই প্রশ্ন এখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। আমরা বঙ্গবন্ধুকে যেমন জাতির জনক মনে করি, তাকে স্বাধীনতা সংগ্রামের যেমন মূল নেতা মনে করি, তার আদর্শকেই আমাদের আদর্শ মনে করি। বঙ্গবন্ধুর চার মূলনীতি আর সংবিধানের ওপর কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি যে বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে কথা হয়।

বাদশা বলেন, বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রের অর্থ কী বঙ্গবন্ধু সংসদে সংবিধান পাস করার সময় তা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সমাজতন্ত্রের ব্যাখা অন্য দেশের মতো নয়। বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যা বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে। সেই ব্যাখ্যা হচ্ছে- বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। গরীব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাই বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল।

‘আমরা জানি, অন্য দেশে সমাজতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সেটা বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করেই বলেছিলেন। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব সংবিধান বাস্তবায়ন করা, বঙ্গবন্ধু প্রণীত চার মূলনীতি বাস্তবায়ন করা। সংবিধান বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা কোনদিনই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পরাস্থ করতে পারব না।’

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছি একটি আদর্শকে সামনে রেখে। আমরা একটি জনগণের রাষ্ট্র অর্জন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা এসেছেন তারা দুর্নীতি করেছেন। সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে, করোনা ভাইরাসের এই সময় যখন দেশের মানুষ দুঃখ-কষ্টে আছে তখনও টাকা পাচার হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর লাশ যখন পড়ে ছিল তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? আমি আজ প্রশ্ন করি, বঙ্গবন্ধুর কন্যা যখন প্রধানমন্ত্রী তখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। তখন আমরা কোথায় থাকি? তখন সরকারের ভূমিকা কী, সেটাও স্পষ্ট না। আমি শুনি, রাজনীতিতে কৌশল আছে। আপসও থাকতে পারে। কিন্তু আপস যদি নীতির ভিন্নতায় পরিণত হয়, তাহলে বর্তমান যে পরিস্থিতি হয়েছে এই পরিণতিই ডেকে আনতে পারে। এটা স্বাভাবিক। একটা সরকার ক্ষমতায় থেকে সেই সরকারের বিরুদ্ধে, সেই আদর্শের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া হচ্ছে বাইরে থেকে, তাদের শক্তি কীভাবে তৈরি হলো সেটা আমাদের ভেবে দেখা দরকার।

রাকসুর সাবেক ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, হেফাজতের এক নেতা বলেন, আমাদের কথা শুনে যদি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তাহলে ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। আজব ব্যাপার! তার কথা শুনে ক্ষমতা পরিচালনা করতে হবে! বাবু নগরী কোন নগরের বাবু যে তার কথা শুনে আজকে দেশ পরিচালনা হবে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা হবে না বাবুনগরীর কথায় বাংলাদেশ পরিচালনা হবে আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। সংবিধানের মতে দেশ চলবে না হেফাজতের কথায় দেশ চলবে? যদি সংবিধানের ভিত্তিতে দেশ চালাতে ব্যর্থ হন, মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ এখনও বেঁচে আছে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করবে।

তিনি বলেন, চার মূলনীতির সাথে কোন আপস আমরা মেনে নেব না। চার মূলনীতি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের গরীব মানুষ বাঁচবে। আমরা বলেছি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের কথা। আজকে ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায় মূর্তি পূজা করতে পারে। আমাদের সংবিধানে সেই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি আছে। তাহলে কি আমরা মূর্তি ভেঙে ফেলব? যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হাতুড়ি মেরেছে, জনগণ তাদের মাথায় হাতুড়ি মারবে। আমাদের লড়াই-সংগ্রাম করেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ৪০ বছর আগে যে আদর্শ নিয়ে ছাত্রমৈত্রী প্রতিষ্ঠা করেছিলাম সেই আদর্শ বাস্তবায়নে ছাত্রমৈত্রীকে লাল-হলুদের পতাকা উঁচিয়ে ধরতে হবে। সেই পতাকা তুলেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রমৈত্রী যেন ভুল পথে না চলে। ছাত্রমৈত্রী রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে গড়ে উঠকু, এটাই আমি প্রত্যাশা করি।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু ও জেলার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা।

সমাবেশ শেষে ওয়ার্কার্স পার্র্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে হোসেন বাদশা নগর ছাত্রমৈত্রীর নবনির্বাচিত সভাপতি ওহিদুর রহমান ওহি, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত এইচ মারুফ, জেলার নবনির্বাচিত সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর ছাত্রমৈত্রীর বিদায়ী সভাপতি এএইচএম জুয়েল খান। সমাবেশ পরিচালনায় ছিলেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রায়হান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে