টেস্ট জিততে বাংলাদেশকে যা করতে হবে

0
141

আজ একজন তো কাল আরেকজন, এমন করে কেটে গেল কত কাল!

বাংলাদেশ টেস্ট দলে বোলিংয়ে হাল ঠিক এমনই। প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ টেস্ট দলে নিখাদ আক্রমণাত্মক পেসার নেই বললেই চলে। জুটি বেঁধে পেস আক্রমণে নেই ধারাবাহিকতা। এর কারণ পেসার নির্বাচনের অধারাহিকতা—যা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।

প্রায় প্রতিটি বিদেশ সফরের আগেই বোলিং কোচকে প্রশ্ন করা হতো, টেস্টে পেসাররা কেন ভালো করে না? ওয়ালশ ঘুরে ফিরে সেই অধারাবাহিক খেলোয়াড় নির্বাচনই বুঝিয়েছেন। এক সিরিজে এই বোলিং আক্রমণ তো পরের সিরিজে আরেক। অথচ এ সংস্করণের কিংবদন্তি বোলারদের কথা, টেস্টে বোলিং সাধনার বিষয়; তাতে কামিয়াব হতে সময় লাগে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত চার বছরের চিত্র হলো, এক-দুই সিরিজ খেলিয়েই বেশির ভাগ পেসারকে ফেলা হয়েছে বাতিলের খাতায়। কিন্তু টেস্ট জিততে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে হয়, এ কথা প্রায় সবাই জানেন।

২০১৫ সালে ঘরের মাঠে তিনটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। তিন টেস্টে পেস আক্রমণ ছিল তিন রকম। ২০১৫ সালে পাকিস্তান সিরিজে রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ, শাহাদত হোসেন খেলেন। পরের সিরিজেই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শহীদের সঙ্গে অভিষেক হলো মোস্তাফিজুর রহমানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই বছর খেলেছিলেন অভিষিক্ত কামরুল হাসান ও শফিউল ইসলাম।

একই বছরের শেষে নিউজিল্যান্ড সফরে অভিষেক হয় তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়ের। ছিলেন কামরুল হাসানও। ভারতের বিপক্ষে এর পরের সিরিজে খেলেছেন তাসকিন ও কামরুল। ২০১৭ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে দলে ফেরেন মোস্তাফিজ। তাসকিন ও শুভাশিসও ছিলেন সে সিরিজে।

সে বছরই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেছেন মোস্তাফিজ ও শফিউল। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলেছেন মোস্তাফিজ, তাসকিন, শফিউল, শুভাশিস এবং রুবেল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে কোনো পেসার খেলায়নি বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে এসে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিষেক হয় আবু জায়েদের। সঙ্গে ছিলেন কামরুল ও রুবেল। ঘরের মাঠে ফিরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় খালেদ আহমেদের। ছিলেন আবু জায়েদ ও মোস্তাফিজ। একই বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুধু এক পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ—মোস্তাফিজ একাই।

গত বছর নিউজিল্যান্ড সফর খালেদ, আবু জায়েদ, মোস্তাফিজের সঙ্গে ছিলেন অভিষিক্ত ইবাদত হোসেন। ঘরের মাঠে আফগানিস্তান টেস্টে খেলেননি কোনো পেসার। গত নভেম্বরে আবার ভারত সফরে ফিরিয়ে আনা হয় আল আমিন হোসেনকে। তার আগে আল আমিন সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৩ সালে। আবু জায়েদ, ইবাদত টেস্ট খেলেছেন সেই সিরিজে। পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে আবু জায়েদ, ইবাদত, আল আমিনের সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রুবেল হোসেনকে।

কাল টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক একই প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘আমাদের নিয়মিত যে বোলাররা আছে ওরা খেলতে খেলতে অভ্যস্ত হবে। টেস্ট ক্রিকেট, চার দিনের ক্রিকেট খেলতে খেলতে শিখতে হয়। একদিনে, এক বছরে কোনো ফল পাবেন না। এক দিনে, এক বছরে বা পাঁচ-ছয় মাসে আপনি ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলার পাবেন না। এটা পৃথিবীর সব বোলারই…আমরা যারা ভারতে খেলে এসেছি, ওদের যে বোলাররা খেলে এখন, ওদের ক্যারিয়ার দেখলে বুঝতে পারবেন যে ওরা ১০/১২ বছর ধরে টেস্ট খেলছে। খেলতে খেলতে ওরা শেখে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের যে টেস্ট বোলার আছে ওরা নিয়মিত এক-দুই-তিন বছর খেললে এখন না হলেও এক-দুই বছর পর হয়তো ভালো করবে। ২০ উইকেট নেওয়ার মতো ওরা অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।’

এক-দুই সিরিজ দিয়ে যে টেস্ট বোলার পাওয়া যায় না, সেটি হয়তো দেরিতে হলেও টের পাচ্ছে বাংলাদেশ। গত কয়েক সিরিজে আবু জায়েদ ও ইবাদতকে নিয়মিত খেলানো হচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে এ দুজনকে রেখেই দল ঘোষণা করা হয়েছে। আরও সময় দিলে হয়তো এসব পেসারই হবেন টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পদ।

৭ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হবে প্রথম টেস্ট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে