আন্দোলনেও শ্রেণিবৈষম্য: মুক্তি মিলবে কিসে?

0
254
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ। ছবি: জীবন আহমেদ

আলতাফ হোসাইন: গত এক বছরে দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ১৪১৩ জন নারী ও শিশু! ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন! এর একেকটা ঘটনা কতটা নৃশংস ছিলো তা অবর্ণনীয়। গুগলে ধর্ষণ কিংবা শিশু ধর্ষণ লিখে সার্চ দিলেও দেশের আনাচকানাচে ঘটে যাওয়া অসংখ্য নৃশংসতার প্রমাণ পাবেন। ১ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধাও সেসব নৃশংসতা থেকে রক্ষা পায়নি।

গতকাল ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতাও অপ্রত্যাশিত। রাজধানীতে এভাবে প্রকাশ্যে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে পশুরা যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবশ্যই এর বিচার চাই। বিচারের জন্য ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু হয়েছে। যদিও শত শত ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে মাত্র দুই-একটা নিয়ে আমরা মাঝে মধ্যে আন্দোলন করে থাকি। তাও সেটা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর। অথবা ঢাবি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হলেই আমাদের আন্দোলন করতে হয়। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে নয় কেন?

ধর্ষণের শিকার ৪ বছরের শিশু। তার দরিদ্র পিতা দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন বিচারের আশায়। থানায় মামলা নেয় না, বিচার চাইতে গিয়ে প্রভাবশালীদের হুমকিতে নিজেরাই গ্রাম ছাড়া হয়েছেন। এমন বহু ঘটনার সাক্ষী আপনি আমি, আমরা সবাই…তারা কি বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে না ? তাহলে এমন সিলেক্টিভ আন্দোলন কেন? আন্দোলন সার্বজনীন বা সকলের জন্য হয় না কেন? অনেক আগে থেকেই ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থীরা রাষ্ট্র কর্তৃক শ্রেণিবৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। এখন আমাদের আন্দোলনও কি সেই পর্যায়ে চলে গেল?

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ওই এলাকা, অর্থাৎ, কুর্মিটোলায় ধর্ষণের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, বিশেষ করে কদিন আগে সেখানে এক বিউটি পারলারের কর্মীকেও ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তখন কেউ আন্দোলনও করেনি, ঘটনা খুব বেশি জানাজানি, ফেসবুকে ভাইরাল হয়নি এবং বিচারও হয়নি। ফলে পুনরায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটেছে।

অন্যদিকে যেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীই বাস থেকে নামার পর ধর্ষণের শিকার হন, সেখানে অন্য নারীর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। আমরা শুধু তাদেরটাই জানি, যারা সাহস করে প্রতিবাদ করেন এবং মামলা করতে এগিয়ে আসেন। এর বাইরে অনেক নারীই এই ধরনের সহিংসতার শিকার হন, যার বেশির ভাগই আমাদের অজানা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেশির ভাগ সময়ই অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির জন্য জনগণকে রাস্তায় আসতে হয়; এতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে একটু নড়াচড়া করায় কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রই বিচার নিশ্চিত হয়। সেখানে সামাজিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ক্ষেত্রেও যদি আমরা শ্রেণিবৈষম্য করে ফেলি তাহলে মুক্তি অসম্ভব। সুতরাং এমন সিলেক্টিভ আন্দোলন থেকে আমাদের বের হয়ে এসে ধর্ষকের বিরুদ্ধে সকলের জন্য সমানভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে