তাড়াশে দুই যুগ ধরে গরুর অভাবে বৃদ্ধ দম্পতি ঘানি টানছেন

0
129

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় দুই যুগ ধরে তেলের ঘানি টানছেন বৃদ্ধ জাকির দম্পতি। অর্থ নেই গরু কেনার। সংসার চালাতে তাই বাধ্য হয়েই বৃদ্ধ জাকির হোসেন (৬৮) ও স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫৬) কষ্টের এ বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। জাকির দম্পতি জানান, সারাদিন ঘাটি টেনে ৩ লিটার তেল তৈরি করা যায়। প্রতিদিন সেই তেল ও খৈল বিক্রি করে আয় আসে ১৫০-২৫০ টাকা। সেই অর্থ দিয়ে ৩ জনের সংসার চলে নানা টানা পোড়নের মধ্যে দিয়ে। থাকে না কোন সঞ্চয়। এদিকে অর্থের অভাবে বিয়ে দিয়ে পারছে না ছোট মেয়ে খুশি খাতুকে। সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মাদারজানি গিয়ে দেখা যায় জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি ঘানি টেনে সরিষা মাড়াই করছে চলছেন। কথা হয় ঘানি টানা বৃদ্ধ জাকির হোসেন সাথে তিনি বলেন, গরু কেনার সামর্থ না থাকায় প্রায় ২৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঘানি টেনে আসছি।সহায় সম্বল বলতে পৈতৃকভাবে পাওয়া ৩ শতক জমি সেই ভিটায় দুইটি বাংলা ঘরে এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস তার। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ১০ কেজি সরিষা ঘানি টেনে ৩ কেজি তেল পাওয়া যায়। সেই তেল বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে সামান্য আয়া দিয়ে ছোট মেয়ের পড়ালেখার খরচ এবং নিজেরা খেয়ে না খেয়েই কষ্টে দিন পার করছি। একসময় দেশের শতভাগ মানুষ সরিষার তেল দিয়ে রান্না করা খাবার তৈরি করে খেত। এছাড়া ও সরিষার তেল শরীরে মাখার কাজেও ব্যবহার হতো। সরিষার তেল দিয়ে তৈরি করা হতো আচার, ভর্তাসহ নানা রকম খাবার। এমন কি হোটেলগুলোতেও সরিষার তেলের খাবার তৈরি করা হতো। এখন আর সেই দিন নেই যুগ বদলেছে মানুষ শরিষার ব্যবহার করেনা। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল করিম বলেন, সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে আমি জানতে পারলাম। তাদের সহযোগিতা করার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে