তাড়াশ আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে মিলন সভাপতি, সঞ্জিত কর্মকার সা.সম্পাদক

0
120

তাড়াশ প্রতিনিধি : অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোন্দলন, হামলা-মামলা ও স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের ক্ষমতার দাপটে কোণঠাসা তৃণমূল আওয়ামী লীগের ত্যাগী, পরিশ্রমী, মেধাবী এবং দুর্দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মাঠের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীরা। টানা একযুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে এমন পরিস্থিতি চলমান দ্বন্দ্ব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি ক্ষমতাসীন দলটি। ফলে তৃণমূলের কোন্দল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে কোনো মূল্যে দলের মধ্যে সৃষ্ট এমন কোন্দল নিরসন করতে চান তিনি। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এদিকে নেত্রীর এমন নির্দেশণার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বলয় ভিত্তিক রাজনীতি ভেঙে দিতে কাজ শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সম্মেলনের মধ্যদিয়ে সৃষ্ট কোন্দল নিরসন করছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনও কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেনি। বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্রের  জাল ছিন্নভিন্ন করে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
রোববার (১৪ ফ্রেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি তার সরকারী বাসভবন থেকে ভার্চূয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন।
ব্যক্তি বলয় ভারি করতে পকেট কমিটি গঠন করা যাবে না উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, প্রভাবশালী  নেতাদের নিজ বলয় ভারি করতে কোনো ভাবেই পকেট কমিটি গঠন করা যাবে না। দুর্দিনের কর্মীদের দলে স্থান করে দিতে হবে।
বিদ্রোহীদের কোনো ভাবে ছাড় দেয়া হবে জানিয়ে কাদের বলেন, যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিয়ে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করেছে, তাদের কোনো ভাবেই ছাড় দেয়্ াহবে না। এটা আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ি আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন,  প্রতিটি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন চিত্র মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি মানুষের সাথে ভালো আচরণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিতে হবে। । খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যেন দলের নাম ভাঙয়িয়ে কোনো অপকর্মেও সাথে জরিয়ে না পড়ে।

অনুষ্ঠানে নেতাদের চরিত্র বদলানোর অনুরোধ জানিয়ে  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ৭৫’এ ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি করেছে । আমি তাদের সম্মান জানাই । কিন্তু যারা সেই সময়ের আদর্শ থেকে বর্তমানে বেড়িয়ে এসে, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। নেতাকর্মীদের উপর ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন । তাদের এই চরিত্র থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেড হামলা করা হয়েছিল উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ৪ আগস্ট যে গ্রেড হামলা করা হয়েছিল। সেদিন প্রধান টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যা করা। কিন্তু সেদিন আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরাই ঢাল হয়ে দাড়িয়ে নেত্রীকে প্রাণে রক্ষা করেছিলেন। গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল উপস্থিত নেতাদের শরীর। আইভি রহমান সহ অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। সেদিন দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণে প্রধানমন্ত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছিলেন স্বাধীনতা বিরোধীরা। কেঁড়ে নেয়া হয়েছিল মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার। অবরুদ্ধ করা হয়েছিল গনতন্ত্রকে। ঠিক সেই মুহুর্তে দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুদা, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে দেশের হাল ধরেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রতিটি মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকা। পূর্ণ উদ্ধার হয়েছে দেশের গণতন্ত্র। এই উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে । নিজেদের মধ্যে কোন্দল, দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা যাবে না ।

বিএনপি-জামায়াত সহ বিরোধী  শিবিরের রাজনৈতিক দলগুলো যে কোনো ষড়যন্ত্র করলে দাত ভাঙা জবাব দেয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, সবাই শেখ হাসিনার সাথে বেইমানি করতে পারে। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা কখনো বেইমানি করে না। তাদের ভালোবাসার জন্যই শেখ হাসিনা নিজের জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে কাজ করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ ডা. আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ তানভীর শাকিল জয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল সামাদ তালুকদার,  সাবেক এমপি গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার।

পরে ২য় অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাবেক সাংসদ গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার পুনরায় নির্বাচিত হয়।

প্রসঙ্গত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ বীর মুক্তিযোদ্ধা ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম প্রতিদ্বন্দিতা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে