দক্ষিণের ৪ পৌর নির্বাচন: আ:লীগের প্রার্থী তালিকা নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: নির্বাচনে আগ্রহ নেই বিএনপির

0
58

বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ৪ পৌরসভায় নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশনে ১ ডিসেম্বর প্রার্থিতা দাখিল করবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীরা। যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিটি পৌরসভা থেকেই তৃণমূলের সমর্থনের নামে একটি করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ তালিকা নিয়ে উঠেছে ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ।

বিএনপিতে অবশ্য এসবের বালাই নেই। যে যার মতো করে চাইছেন দলীয় মনোনয়ন। বিএনপির এক নেতা বলেন, দলের যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় কারোরই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই। তারপরও যারা মনোনয়ন চাইছেন তারা লড়াইয়ে কতটুকু টিকবেন তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। তবুও প্রার্থী নির্বাচনে চলছে দলীয় প্রক্রিয়া।’

বরিশালের বাকেরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন ৭ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, নাসির মাঝি, মশিউর রহমান জোমাদ্দার এবং আমিরুজ্জামান রিপন। ২৫ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় বর্তমান মেয়র লোকমান হোসেনকেই আবার প্রার্থী করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

মেয়র লোকমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ইউনিয়ন-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে কেন্দ্রে।’ আরেক মেয়র প্রার্থী আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, ‘এরকম কিছু হলে অবশ্যই জানতাম। এখানে ৭ জন চাইছেন মনোনয়ন। এখন বাকি সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।’

পৌর এলাকার ৩ ওয়ার্ডের বাসিন্দা খলিল সরদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন সেটাই সবার আগ্রহ। অন্য দল নিয়ে ভাবছে না কেউ।’ এখানে পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির জমাদ্দার প্রার্থী হবেন বলে শোনা গেলেও তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না। এখানে ৩ জন দলের মনোনয়ন চাইছেন। এদের যে কোনো একজন হবেন প্রার্থী।

উজিরপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র গিয়াসউদ্দিন ব্যাপারী ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন প্যানেল মেয়র হেমায়েত উদ্দিন, অশোক কুমার হাওলাদার, ইকবাল হোসেন বালি ও কামাল হোসেন সবুজ। এখানে তৃণমূলের কোনো প্রার্থী তালিকা না হলেও নির্বাচন ঘিরে ৩ ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গিয়াসই দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। এ পৌরসভায় মেয়রের পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান লিটন।

২-৩ দিন আগে তৃণমূলের সমর্থন প্রশ্নে ভোটের আয়োজন হয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভায়। ৫০ ভোট পান বর্তমান মেয়র বারেক মোল্লা। মাহবুবুল আলম টিটো ৬, শাহ আলম হাওলাদার ৪ এবং ১ ভোট পান অনন্ত মুখার্জি। জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে এসে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাওয়া আনোয়ার হাওলাদার অবশ্য নামেননি ভোটের লড়াইয়ে।

দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়া আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘ভোটে কি হবে তা আগে থেকেই জানতাম। বর্তমান মেয়র বারেক মোল্লা লাখ লাখ টাকা খরচ করে তৃণমূলের ভোট কিনবেন সেটা সবার জানা। এ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের সঠিক সমর্থন যাচাই অসম্ভব।’

অনন্ত মুখার্জি বলেন, ‘একেকটি ভোট ৫০ হাজার টাকায় পর্যন্ত কেনা হয়েছে। আশা করি কেন্দ্রও জানে বিষয়টি।’ এ পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন শিক্ষক সৈয়দ ফারুক হোসেন এবং মো. সোহেল।

তৃণমূলের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলায় শুধু নিজের নাম পাঠিয়েছিলেন বরগুনার বেতাগী পৌরসভার বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম কবির। জেলা নেতারা অবশ্য তা গ্রহণ করেননি। বলা হয় কমপক্ষে ৩ জনের নাম পাঠাতে। দ্বিতীয় দফায় নিজের নামের সঙ্গে জাহিদ হোসেন এবং হাবিবুর রহমান পান্নার নাম যোগ করে আবারও পাঠান।

কিন্তু তালিকায় নাম নেই আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান মহসিনের নাম। যদিও বেতাগী পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভোটের মাঠে মহসিনের অবস্থান শক্ত।

জানতে চাইলে মহসিন বলেন, ‘যিনি মেয়র তিনিই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। তৃণমূলের সমর্থনের কথা বলে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে তাতে প্রেরক হিসেবে স্বাক্ষরও করেছেন তিনি।’ জানতে চাইলে বর্তমান মেয়র গোলাম কবির বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে আমার ব্যাপারে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

এ পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন সাবেক মেয়র শাহজাহান কবির এবং হুমায়ুন মল্লিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে