দুর্নীতি দমনকে আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে

0
108
ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকারের ’জিরো টলারেন্স’- নীতিতে অটল থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি স্থায়ী সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা খুব দরকার। এজন্য বিদ্যমান আইনকানুন, নিয়মনীতির সঙ্গে দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল ও বহুমাত্রিক কাজ করছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্য’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ’নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড এগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ কর যাবে না।’ বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা, যতে নাগরিকগণ চরিত্রনিষ্ঠ হয়, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠাসমূহে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পায়।দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষকে

নৈতিক জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সকল কাজে আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রনিষ্ঠার উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে এ পর্যন্ত দেশ থেকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে এবং সকল স্তরে দুর্নীতি রোধকল্পে বেশকিছু আইন প্রণয়ন করেছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের উৎসমুখগুলোর বন্ধ করার লক্ষ্যে অনলাইনে টেন্ডারসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি হ্রাসে সরকার সচেষ্ট থাকার কারণে বর্তমান সরকারের আমলে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিগত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক ১৩ হাজার ২টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৫০৯টি মামলা রুজু এবং ৪ হাজার ৪০৭টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

তিন কোটির বেশি ভ্যাকসিন ক্রয়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন: সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যথাসময়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার ইতিমধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩ কোটি বা তার অধিক ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। এই ভ্যাকসিন চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবে বলে আশা করা যায়। তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু), কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি হতে বিশ্বের ৯২টি দেশের মতো দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠী তথা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। ভ্যাকসিন বিতরণের ১ম পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যার মোট দেড় কোটি (৮ দশমিক ৬৮ ভাগ) লোককে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোট ২ ডোজ করে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। দেশের ৬৪ জেলা ইপিআই স্টোর এবং ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হবে। সংসদ নেতা জানান, ইতিমধ্যে ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয়কৃত ৫০ লাখ করোনার টিকা ঢাকা পৌঁছেছে। এই ৭০ লাখ টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সিরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসে সকল টিকার সরবরাহ পাওয়া যাবে। এর বাইরে প্রয়োজন মোতাবেক আরো টিকা ক্রয়ের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে