নাটোরে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

0
168

নাটোরে অধিকাংশ সরিষাক্ষেতে ফুল ফুটেছে। সুন্দর বীজও আসতে শুরু করেছে। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা।  লাভের আশায় তাদের মুখে এখন হাসি। বিভিন্ন উপজেলায় জমির পর জমিতে সরিষার আবাদ দেখা গেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফুলে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছি। তবে অনেক জমিতেই ফুল শেষ হয়ে বীজ দেখা গেছে। বীজগুলো বেশ তরতাজা, যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে।

সদর উপজেলার ভাটোদাঁড়া গ্রামের কামানগাড়ি বিলের সরিষা চাষি উমর আলী জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করে লাভবান হওয়ায় এ বছর দুই বিঘায় সরিষা চাষ করেছেন।  সরিষার ফুল শেষে ভালো আর বড় বড় বীজ দেখা যাচ্ছে।

সিংড়া নিংগইন বিলের কৃষক জব্বার জানান, তিনি দেড়বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত জমিতে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। বরং সুন্দর আর স্বাস্থ্যবান বীজের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। এতে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারবেন।

নলডাঙ্গা বিলের কৃষক রানা জানান, শুধু তার নয় ওই বিলের অন্যান্য কৃষকের জমিতেও ভালো ফুল শেষে তরতাজা বীজ আসতে শুরু করেছে। এতে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। যদি এ বছর সরিষার ভালো মূল্য পাওয়া যায়, তবে সব সরিষা চাষিই লাভবান হবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার জানান, ২০১৯ সালের মতো এবারও কৃষকেরা ভালো ফলন আর মূল্য পেয়ে লাভবান হতে পারবে। ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার জানান, গত বছর জেলায় সরিষা চাষাবাদ করা হয় ৬২১৯ হেক্টর জমিতে। এতে ফলন হয়েছিল ৭৬০৬ মেট্রিকটন। কৃষকেরা ভালো মূল্য পাওয়ায় এবার সরিষার চাষাবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষ করা হয়েছে ৬৫৪২ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় ৩২৩ হেক্টর বেশি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর, সিংড়া উপজেলায় ৩১০০ হেক্টর, গুরুদাসপুর উপজেলায় ৯৬০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৪১২ হেক্টর, লালপুরে ৪২০ হেক্টর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে