নূর মোহাম্মদ মুনের দুটি কবিতা

0
32

 

১.

আমি সামনের দিকে এগুতে থাকি

কিছু লোক আমার এই আগানো পছন্দ করেনা

তারা আমার পা টেনে ধরে

রাস্তার মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে,

বর্জ্য ফেলে, উপর থেকে আর্বজনাও ফেলে

অথবা পর্বতের ন্যায় অনড়, অটল নিজেরাই বসে থাকে

সেচকার্যের সুবিধা হবে-এই কথা বলে পথের মাখে খাল খনন করে

সেখানে  তারা হাঙর, কুমির, জোঁক আর আফ্রিকান মাগুর পোষে,

মাঝে মাঝে আমি অবশ্য নিজেও পথের কাঁটা পাথরদের সাথে বচসা করি

এতে সময়ও যায়, লক্ষ্যও দূরে চলে যায়

আসলে কেউ কারো নয় বোধহয়!

আমি পিছিয়ে যাই, শামুকের মতো নিজেকে গুটিয়ে ফেলি

এতে কিছু লোক খুব খুশি হয়

নীল নকশা বাস্তবায়ন হলে যেমন খুশি হয় নকশাপ্রণেতারা

কিছু লোক মস্করা করে বলে-আগেই বলেছিলাম-

আসলে এমনটিই হবার কথা ছিল তো!

 

* * * * * * * * * * * * * *

২.

এইসব ইটপাথরের শহরে

অলিতে, গলিতে কানায় কোনায়

তোমাদের ব্যস্ততায়,

তোমাদের যান্ত্রিকতায় আমি নেই

আমি থাকিওনা সেখানে

আমি থাকি মানবতায়

ভালোবাসায় আর স্নেহ- মায়া-মমতায়

তোমরা পাথরের হয়ে গেছো হায়!

অথচ পাথরও কতক এমন হয়

যে, উহা হতে ঝর্ণা প্রবাহিত হয়

একটি সুন্দর শ্বেত পাথরের মূর্তির মতোন

অথবা কষ্টি পাথরের দুর্লভ মূর্তির মতোন…

আমার এ ড্রইংরুমে অথবা শোকেসে

তোমাদের আমার ঠিক দরকার নেই!

আমি হয়তো তেমন জহুরী নই…

পাথরেরা আমার অচেনা

এইসব পাথর, ইট আর ঘাস-মাটি আর

সেইসব হলুদ ঘাস-ইটের নিচের।

আমার কেবল দরকার ছিলো

একটি গভীর খোলা নিঃস্বাস

কিছু দুষণমুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস আর

একটি ঘাসের ‘পরে একটি শিশিরবিন্দু!

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে