পজিশন তৈরী থাকে না, নিজের যোগ্যতা দিয়ে জায়গা করে নিতে হয়

0
298

বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করছেন আতিকা রহমান। অল্প সময়ের মধ্যেই সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে পথ চলার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন আতিকা রহমান। নিচে তার সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হল।

  • সাংবাদিকতার শুরু কিভাবে হলো?

আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই গল্প কবিতা লিখতাম। লেখালেখির অভ্যাস থেকেই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। ২০০৭ সালে তখন আমি অনার্স ১ম বর্ষে পড়ি। পাক্ষিক অন্যন্যাতে ফিচার লেখা শুরু করি। নিয়মিত লিখতাম। এবং ২০০৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম আলোর ফিচার বিভাগে কাজ করতাম। নারীমঞ্চ, ঢাকায় থাকি, স্বপ্ন নিয়ে এসব ফিচার পাতায় লেখা ছাপা হতো। এরপর ২০১০ সালে ৭ মাসের মতো দৈনিক ভোরের কাগজে রিপোর্টার হিসেবে চাকরি করি।

অন্যন্যা, প্রথম আলো এবং ভোরের কাগজে কাজ করার সুযোগ হয় সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী আপার সূত্র ধরে। ওনার হাত ধরেই আমার সাংবাদিকতা শুরু। উনি পত্রিকায় লেখা এবং সাংবাদিকতা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতেন।

এরপর ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে আরটিভিতে যোগদান করি। আমার টেলিভিশন সাংবাদিকতার কাজ শেখা এবং আজ এ পর্যন্ত আসার পেছনে আরটিভির অবদান অনেক। আরটিভি আমাকে অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।

  • পেশাগত জীবনে এখন কি ধরনের সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

বতর্মানে পেশাগত জীবনে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য না পাওয়া , কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের হুমকি বা কাজে বাধাসহ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এছাড়া এখন সাংবাদিকদের মধ্যে এবং গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও অনেক প্রতিযোগীতা তৈরী হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে এই তথ্য প্রযুক্তি অবাধ প্রবাহের যুগে অনেক নিউজ সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে চলে আসে। সবার দ্রুত নিউজ দেয়ার প্রবণতা আছে।  সেই ক্ষেত্রে সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের কাছে পৌছে দেয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানোটাও এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এটাকে আমাদের সবার মোকাবেলা করতে হবে

  • ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্তেও কেন এই পেশা বেছে নিলেন।

আমি মনে করি সাংবাদিকতা অত্যন্ত সৃজনশীল একটি পেশা। এখানে ক্রিয়েটিভ কাজ করার সুযোগ আছে। এই পেশার মাধ্যমে আমার লেখনির মাধ্যমে দেশের মানুষের কথা বলতে পারবো। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবো। এই কাজের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকা রাখতে পারবো একারনেই এই পেশা বেছে নিয়েছি।

  • নারী সাংবাদিক হিসেবে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়?

সাংবাদিকতার পেশাটাই অনেক চ্যালেঞ্জিং। অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে কাজ করতে হয়। নারী হিসেবেও অনেক চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হয়। কেননা আমাদের সমাজ রাষ্ট্র এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী নারীবান্ধব, নারীদের জন্য সুন্দর কর্মপরিবেশ  বা শতভাগ নারীদের জন্য নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।

সেক্ষেতত্রে কিছু প্রতিকূলতা আছে। তবে আমি পেশাগত জায়গায় সব সময় চেষ্টা করেছি নারী হিসেবে নয়,, একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে সাহসী ও দক্ষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।

আমি সব সময় মনে করি কেউ আমাকে জায়গাটা করে দিবেনা। নিজের পরিশ্রম দক্ষতা দিয়ে জায়গা টা তৈরি করে নিতে হবে।।

  • পেশাগত জীবনে পরিবারের কেমন সহযোগীতা পান।

আমার সাংবাদিকতা পেশার আসতে বাবা মায়ের কোন আপত্তি ছিলো না। আমার পেশাগত জীবনে বিভিন্ন কাজে আমার বাবা মা অনেক সহযোগীতা করেছেন।  প্রচন্ড উৎসাহ দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন। আমার আজকে এ পর্যন্ত আসার পেছনে আমার মায়ের অবদান অনেক। বিয়ের পরেও আমার হাজবেন্ডের কাছ থেকে কোন রকম বাধা পাইনা। আমার কাজে সব সময় উৎসাহ দেয়।।

  • সাংবাদিকতায় পেশায় নারীদের সংখ্যা কম কেন?

আমি মনে করি গত ৭/৮ বছরে অনেক নারী সাংবাদিকতা পেশায় এসেছেন। আগের থেকে ভালো অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে তা অবশ্যই প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। আমি করে গণমাধ্যমের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে অর্থাৎ সংবাদপত্র বা টেলিভিশনে উচ্চ পর্যায়ে নারীদের সংখ্যা আরও বাড়লে,, নারী সাংবাদিকদের সংখ্যা আরও বাড়বে। আর পরিবার থেকে সহযোগীতা আরও প্রয়োজন।।

  • আপনি কোন ধরনের রিপোর্টিং বেশি করেন।

আমি মূলত দুর্নীতি বিরোধী ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংশ্লিষ্ঠ, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে রিপোর্ট করি। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে নিউজ করি। এছাড়া পেশাগত জীবনে ঘটনা দুর্ঘটনা সমসাময়িক অনেক বিষয়ে রিপোর্ট করতে হয়।

  • আপনি গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন, সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

আমি ৩ বার ইউনিসেফ বাংলাদেশের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। ওগুলো সবগুলোই শিশু অধিকার ও শিশু ও কিশোরদের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কার পেয়েছিলাম সেটি ছিলো অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান ডেলিভারী,  মাতৃত্বকালীন ঝুঁকি ও স্বাস্থ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিলো। এছাড়া বন্ধু সোসাল ওয়েলফেয়ার থেকে হিজরাদের নিয়ে রিপোর্ট করেও ফেলোশিপ ও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম।

  • আপনার বেড়ে ওঠা এবং সাস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কেমন ছিলো।

আমি এইচএসসি পর্যন্ত নাটোরে লেখাপড়া করেছি।  অনেক ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি নাটোর উষা খেলাঘরের সদস্য ছিলাম।  আমি ছবি আঁকার গুরু ছিলেন চিত্র শিল্পী এম আসলাম লিটন। ওনার হাত ধরে খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত হই। সেখানে গান কবিতা অভিনয় চর্চা করি। এবং ছোটবেলায় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ম্যাগাজিনে লেখালেখিতে উৎসাহ ও হাতে কলমে শিখেছি এম আসলাম লিটনের কাছে। ওনার অনেক অবদান আছে। নাটোরে সাঙস্কৃতিক আবহটা নিজেকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। আমি বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অনেক পুরস্কার পেয়েছি। বর্তমানে আমি খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

  • আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।

আমার বাবা মা নাটোরে থাকেন। আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন। মা এনজিওতে চাকরি করেন। আমার ছোট দুই ভাই আছে। আমার হাজবেন্ড পেশায়একজন  সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। আমার একমাত্র কন্যা রূপকথা, বয়স ১ বছর ৭ মাস।

  • অবসর সময়ে কি করেন?

অফিসের কাজের বাহিরে এখন মেয়েকে নিয়ে সময় কাটে বেশী। এর বাহিরে একটু অবসর পেলে আমি ছবি আঁকি কবিতা গল্প লিখি। এছাড়া আমি প্রচুর বই পড়ি, গান শুনি, সিনেমা দেখি।

  • আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ভবিষ্যতে সাংবাদিক হিসেবে  নিজেকে আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এছাড়া আমি নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই। এবং পিছিয়ে পরা জনগোষ্টি অটিজম প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

  • নাটোর সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমার জন্মস্থান নাটোর। নাটোরের মেয়ে হিসেবে আমি অবশ্যই গর্ববোধ করি। নাটোরের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির জন্য গর্ববোধ করি। আমি মনে করি নাটোরের ইতিহাস ঐতিহ্য সারাদেশে যেভাবে প্রচার হওয়া উচিত সেভাবে হয়নি। এটা নিয়ে আমাদের আরও কাজ করা দরকার। এবং নাটোরে কৃষিক্ষেত্রে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে নাটোরের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে ভূমিকা নিতে হবে। নাটোরের পর্যটনখাতও অনেক সম্ভাবনাময় সেটাতেও গুরুত্ব দেয়া উচিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে