পদ্মার চরাঞ্চলে পেঁয়াজের ভালো ফলনে কৃষক খুশি

0
24

রাজশাহী প্রতিনিধি :   কুয়াশা  ভেদ করে শীতের সকালে বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের জমিতে পেঁয়াজ তুলতে ব্যাস্ত বেশ কিছু নারী-পুরুষ শ্রমিক। কেউ উঠাচ্ছেন-আবার কেউ বা ছাঁটায়-বাছাই করছেন। উদ্দেশ্য ভালো দাবি বাজারে বিক্রি। এবার হচ্ছেও তাই, ফলে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি চরাঞ্চলের পেঁয়াজ চাষীরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে প্রবেশ করলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। কৃষকরা এ বছর পেঁয়াজের বাজার মুল্য ভালো পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন বলে জানান। গতবছর বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে সময় লাগে।
তারপরও পেঁয়াজের বাজারমুল্য স্থিতিশীল ছিল। এ কারণে এবার প্রায় সকল কৃষকই কমবেশি পেয়াজ চাষাবাদ করেছেন। এদিক থেকে এখন পর্যন্ত বাজার মুল্যে ভালো পাওয়ায় চাষীরা খোশ আমেজে রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় তিন হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম পেঁয়াজের চাষ করেছেন।
তাদের তথ্য মতে, বাঘার চরাঞ্চলের পেঁয়াজের গুনগতমান ভালো। এ কারণে এখান থেকে প্রতি মৌসুমে বাস এবং ট্রাকযোগে পেঁয়াজ চালন দেয়া হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
চরাঞ্চলের কৃষক বাবলু দেওয়ান ও আকছেন শিকদার জানান, তারা গতবছর ইচ্ছে থাকার পরেও বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় খুব বেশি পেঁয়াজ চাষ করতে পারেন নি। এদিক থেকে এবার চরাঞ্চলের অসংখ্য কৃষক অনুকূল আবহাওয়া ও উপযুক্ত মাটি পেয়ে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। তাদের দাবি, গত বছর ভারত থেকে (এলসি) পিঁয়াজ আসায় দেশী পেঁয়াজের দাম পড়ে গিয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত পেয়াজের বাজার সন্তশ জনক রয়েছে। এটি যেন চলমান থাকে।
চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজচাষী গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি গত বছর অত্র মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে বাজার মুল্য পেয়ে ছিলেন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। কিন্তু এবার জমি থেকে ৪২ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রী করতে পারছেন। এ থেকে তিনিসহ প্রায় সকল কৃষকই লাভের মুখ দেখার সপ্ন দেখছেন।
এদিকে সমতল এলাকার বাউসা গ্রামের কৃষক মালেক ও আড়ানীর মুক্তার আলী জানান, তারা প্রতিবছর কম-বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষাবাদ করে থাকেন। বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার মুল্য ভাল দেখে তাদের ভালো লাগছে।
তাদের মতে, সরকার যদি এখন থেকে পেঁয়াজের বাজার ধরে রাখতে পারে তাহলে সামনের মৌসুমে উৎপাদন বাড়বে। আর যদি না পারে তাহলে উৎপাদন কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিবে এবং অন্যদেশ খেকে সরকারকে পেঁয়াজ আনতে হবে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লা সুলতান জানান, এবছর দেশের সর্বত্রই কম-বেশি পেঁয়াজের চাষ-আবাদ হওয়ায় উৎপাদন বেড়ে গেছে। ফলে বাজার মুল্য স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, বাঘার সমতল এলাকায় যে পরিমান পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় তার চেয়ে অনেক বেশি উৎপন্ন হয় উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। তিনি পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে