পরিবহন ধর্মঘট: অচল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

0
64

টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে। কিন্তু বাস নেই। সকাল সোয়া আটটা থেকে পৌনে নয়টা পর্যন্ত মির্জাপুর, ইচাইল, কর্ণী, শুভুল্যা ও কদিম ধল্যা এলাকায় মহাসড়কে ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী দুই-একটি বাস, কিছু সংখ্যক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি বাস ঢাকার দিকে
গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চলেছে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহনশ্রমিকেরা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন। এ কারণে সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ আশপাশের সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকাল ৭টা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবহনশ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। যানবাহন থেকে চালকদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরিবহনশ্রমিকেরা মহাসড়কে এলোমেলোভাবে গাড়ি রেখে দেন।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া বাস ধর্মঘটের চার দিন পর আজ বুধবার সকাল থেকে বাস চালানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সে আশ্বাসের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বরং এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছু বিড়ম্বনা। আজ সকাল থেকে দূরপাল্লার ঢাকাগামী বাসও বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়েছে ট্রাক চলাচলও। সকালে মজমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইক বা নসিমন-করিমন জাতীয় অবৈধ যানে যাচ্ছেন। ঢাকা যাওয়ার জন্য মজমপুর এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় করেছেন অনেক যাত্রী। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তারা যেতে পারেননি।

খুলনা: খুলনার অভ্যন্তরীণ সড়কপথে আজ সকাল থেকে বাস চলাচলের কথা থাকলেও চলছে না। সকালে বাস ছাড়বে—এমন খবরে সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রয়্যাল ও শিববাড়ির মোড়ে শত শত যাত্রী দূরদূরান্তে যাত্রার উদ্দেশে আসে। বাস না ছাড়ায় যাত্রা ভঙ্গ হয় তাদের। বেশির ভাগ বাস কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। খুলনা শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস না ছাড়লেও রূপসা-মোংলা, রূপসা-বাগেরহাটসহ বেশ কিছু সড়কপথে বাস চলাচল করছে। যেসব সড়কপথে বাস চলছে না, এসব সড়কে যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।
লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চলেছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের মাসকান্দা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, পাটগুদাম ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড ও উত্তরবঙ্গ বাসস্ট্যান্ড থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অন্য কোনো গন্তব্য থেকে ময়মনসিংহে কোনো বাস আসেনি। তবে বিআরটিসি বাসগুলো নিয়মিত চলাচল করেছে। ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সীমিত সংখ্যায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

গাজীপুর: গাজীপুরের ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও গাজীপুর-কোনাবাড়ি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একেবারে কম। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়কগুলোতে স্থানীয় কয়েকটি বাস, বিভিন্ন কারখানা ও সরকারি অফিস-আদালতের মিনিবাস চলতে দেখা গেছে। দুটি সড়কে দূরপাল্লার গাড়ি দেখা যায়নি। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিককে লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান নিতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। তারা দূরপাল্লার কোনো গাড়ি দেখলেই সেগুলো থামিয়ে দিচ্ছিল।
গাজীপুরের সালনা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, মির্জাপুর মাস্টার বাড়ি, ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় সড়কে দূরপাল্লার কোনো যান চলাচল করতে দেখা যায়নি।

ধর্মঘট কর্মসূচির ফলে বগুড়া থেকে জয়পুরহাট, রংপুর, নওগাঁ,গাইবান্ধা, দিনাজপুর, নাটোর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ-নগরবাড়ি, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল এবং উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের সড়কপথে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বগুড়া হয়ে ঢাকা-নওগাঁ, ঢাকা-জয়পুরহাট, ঢাকা-রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। দু-একটি জেলা থেকে সীমিত কিছু বাস চলাচল করছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে