পাপিয়ার ডেরায় যেতেন যে ৩ প্রভাবশালী

0
128

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রেফতার ও বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার পাপকাণ্ডে পা রাখাদের নামের একটি তালিকা।

যেখানে কয়েকজন সচিব, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও এমনকি সংসদ সদস্যসহ একাধিক ভিআইপির নাম রয়েছে। আর ভাইরাল হওয়া সেই তালিকাটি সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

যদিও এ তালিকার ব্যাপারে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করেনি পাপিয়ার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

তালিকাটি ‘মনগড়া প্রচারণা’ মন্তব্য করে মঙ্গলবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্টদের থেকে এমন তালিকা দেয়া হয়নি।

এমন বিজ্ঞপ্তির পরও সাধারণ জনতার কৌতূহল শেষ হয়নি। ওই তালিকাকে ঘিরে নানা মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা আর পাপিয়াকাণ্ডে ফেসবুকে ফাঁস হওয়া ভিডিওচিত্রের সঙ্গে মেলাচ্ছেন অনেকে।

এরই মধ্যে পাপিয়ার হোটেল ওয়েস্টিনের ডেরায় নিয়মিত যাতায়াত করা ৩ প্রভাবশালীর নাম জানা গেছে।

তারা হচ্ছেন – রাজনীতিবিদ মুরাদ, ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ও স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী প্রেম।

এ তিনজন ছাড়াও হোটেল ওয়েস্টিনে পাপিয়ার গড়ে তোলা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ডেরায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল বেশ কয়েকজন এমপি, সচিব, রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীর।

দুদকের কাছে ইতিমধ্যে এই হোটেল কর্তৃপক্ষ পাপিয়ার ভাড়া করা প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটসহ কয়েকটি কক্ষে যাতায়াতকারীদের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে।

এমন খবরে পাপিয়ার ডেরার মেহমান সেসব এমপি, সচিব, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদের মধ্যে যারা পাপিয়ার ডেরায় প্রটোকল ছাড়া হাজির হতেন, তারা এখন গোপন ভিডিও ফাঁসের আতঙ্কে আছেন।

তাদের অনেকের পাপিয়া ও তার স্বামীর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সাক্ষী। নিজেদের ক্ষমতাবলে নানা দুর্নীতিতে পাপিয়াকে সহযোগিতা করেছেন তারা। পরিবর্তে পাপিয়া তাদের সরবরাহ করেছেন রুশ সুন্দরী।

রিমাণ্ডে পাপিয়া ও তার সহযোগীরা যে কোনো সময় তাদের নাম প্রকাশ করে দিতে পারে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেসব অপকর্মের গোপন ভিডিও ক্লিপ ফাঁস হতে পারে সে আশঙ্কায় ভুগছেন এসব আমলা ও নেতারা।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও এবং কিছু তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা প্রতিটি বিষয়ই আমলে নিয়েছি। এর মধ্যে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ও রিলেভেন্ট এলিমেন্ট আমরা পিক করছি।’

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, পাপিয়া সেসব এমপি, সচিব, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বিদেশি মডেল সরবরাহ করে বড় অঙ্কের টাকা নিতেন। কখনো কখনো কার্য উদ্ধার করতেন। আবার ওই মডেলদের মাধ্যমে অর্থপাচার করতেন।

জানা গেছে, বিদেশি মডেলদের মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়টি সিআইডি কর্মকর্তারা যাচাই করছে এবং এ বিষয়ে চাঞ্চল্য সব তথ্য উঠে আসছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেছেন, পাপিয়াসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাপিয়া ও তার স্বামী কিছু কিছু দেশে অর্থ পাচার করেছে। সে তথ্য আমরা পেয়েছি। এখন তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি সঠিক কি না। যদি সঠিক হয় তবে আমরা ‘অ্যাকশনে’ যাব।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেছেন, পাপিয়া ও তার সহযোগীদের ব্যাপারে অর্থপাচারের অনুসন্ধান চলছে। ব্যাংক, সঞ্চয় পরিদফর, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, পাপিয়াকাণ্ডের পর মহিলা যুবলীগের আরও কয়েকজনের আমলনামা যাচাই-বাছাই করছে গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের যে কোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে