ফিফটি তুলে নেয়া টিনাশেকে বোল্ড করলেন তাইজুল

0
95

রান পাহাড়ে চাপা পড়ে যাওয়া জিম্বাবুয়েকে খেলায় ফেরাতে চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার টিনাশে কামুনহুকামউইকে। ফিফটি তুলে নেয়ার পর দলীয় ১০২ রানে তাইজুলের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন তিনেশা।

হারলেই ট্রফি হাতছাড়া। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ৩২৩ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ১৫ রানে রেগিস চাকাভাকে সাজঘরে ফেরান শফিউল ইসলাম। ৯.৩ ওভারে ৪৪ রানে জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলরকে দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে হাল ধরতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শেন উইলিয়ামসও। ২৪ বলে মাত্র ১৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ে ৬৭ রানে প্রথম সারির ৩ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩৮ রানে ফেরেন ওপনার লিটন কুমার দাস। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ১২৬ রানের ইনিংস খেলা লিটন এদিন ফেরেন ১৪ বলে মাত্র ৯ রান করে। তিন নাম্বার পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬ রানে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত।

এরপর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তামিম। ৫০ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৫৫ রান করে আউট হন মুশফিক। তার বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ফের ১০৬ রানের জুটি গড়েন তামিম।

এই জুটিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ভিভ রিচার্ডসকে ছাড়িয়ে যান তামিম ইকবাল। শুধু রিচার্ডসকে ছাড়িয়ে যাওয়াই নয়, প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৭ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন দেশসেরা এ ওপেনার।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ডিপ স্কায়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তার আগে ৫৭ বলে তিনটি চারের সাহায্যে করেন ৪১ রান।

ব্যাটসম্যানদের এ আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন তামিম ইকবাল। সবশেষ ৭ ইনিংসে প্রত্যাশিত ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ তামিম ইকবালকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। মঙ্গলবার মাঠে নামার আগেও তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সেই সমালোচনা জবাব ব্যাট হাতেই দিলেন দেশসেরা এ ওপেনার।

ইনিংস ওপেন করতে নামা তামিম ফেরেন ৪৫.৩ ওভারে। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ তুলে দেন। তার আগেই গড়েন ইতিহাস। দেশের হয়ে ব্যক্তিগত ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন তামিম। এই ইনিংস খেলার পথে তামিম নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙেন।

এর আগে ২০০৯ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বুলাওয়ে স্টেডিয়ামে দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। সিলেট দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলেন ১৩৬ বলে ২০টি চার ও ৩ ছক্কায় ১৫৮ রানের ইনিংস। তামিমের সেঞ্চুরি আর মুশফিকুর রহিমের ফিফটির সুবাদে ৮ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। শেষদিকে মাত্র ১৮ বলে ৩২ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে