বন্যাদূর্গত চলনবিলের মানুষের বিপদের সাথী হতে অবিরাম ছুটে চলা এক জনদরদী নেতার নাম পলক

0
89

নাসিম উদ্দীন নাসিম–

লেখার শুরুতে একটি কথা না বললেই নয়।  এই লেখাটি দেখে অনেকেই ভাবতে পারে , এটা নিছক পলক বন্ধনা ছাড়া কিছু নয়  । খাস বাংলায় পলকের দালালি । তোষামোদী বা তেল মারা ও বলতে পারেন । আর জানেনই তো ,কথা বলতে তো আর টেক্স লাগে না । যে যেটায় মনে করুন আর বলুন, প্রকৃত সত্য বলতে আমি পিছ পা হয়নি ।আর হবোও না কোন দিন। একজন পেশাদার  কলম সৈনিকের কাজ শুধু রাজনীতিবিদদের নেগেটিভ কাজগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা নয় । তারা পজেটিভ যে কাজগুলো করছে তাও দেশবাসিকে জানানো । এ ক্ষেত্রে কে কি ভাবলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না ।   তাছাড়া রাজনীতিতে ভিন্ন মেরুর বা আর্দশের লোক হয়েছি বলে শুধু বিরোধীতা করে যাবো । এটা ঠিক না । সাদাকে সাদা আর কালো কে কালো বলা যাবে না । এমন কোন কথা নেই । আপাদমস্তক একজন সাংবাদিক হিসেবে মনোযন্ত্রণার আপন তাগিদে যা চোখে দেখলাম , তার বর্ণণা না করে পারলাম না ।  আগামী প্রজন্মকে সত্যিকার একজন মানবতাবাদী তরুণ রাজনীতিবিদের কর্মময় জীবন সম্পর্কে জানা থেকে বঞ্চিত করতে চাই না ।
সারাদেশের বন্যাকবলিত জেলা গুলোর মধ্যে নাটোর একটি । স্মরণকালের এ বন্যায় চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়ার পুরো উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে  । আত্রাই নদীর অববাহিকায় অবস্থিত সিংড়া উপজেলা দেশের বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম  । প্রতিদিনই আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে বন্যার পানিতে । তাছাড়া পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে বানভাসি মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । আনুপাতিক হারে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ । সিংড়া উপজেলায় এবার বন্যা ৮৮ সালের রেকর্ডভঙ্গ করেছে । বন্যাকবলিত এ অঞ্চলের বানভাসি মানুষের দুঃখ ,দূর্দশার অন্ত নেই ।  দেশের মৎস্য ও কৃষি সম্পদের সূতিকাগার সিংড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের জন্য পেশাদার একজন সাংবাদিক হিসেবে নিয়মিত বণ্যাকবলিত এই জনপথে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে । এই আসা যাওয়ার পথে একজন প্রকৃত জনদরদী নেতার দেখা পেলাম । যার কথা না বললেই নয় । চলনবিলের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের এই  সৌভাগ্যর বরপুত্র আমার ¯স্নেহের ছোট ভাই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহম্মেদ পলক এম,পি । বিল অঞ্চলের মানুষের বিপদে সাথী  হতে  অবিরাম ছুটে চলা একজন প্রকৃত জনদরদী নেতার প্রতিকৃতি সে।বন্যা কিংবা ঝড়সহ প্রতিটি দূর্যোগে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পলকের  নিরন্তর প্রচেষ্টা আর ছুটে চলা দেখলাম নিজের চোখে । যা দেখে পলকের প্রতি ¯স্নেহ  ও ভালোবাসা বহুগুন বেড়ে গেল । দেশের বৃহত্তম চলনবিলের  সিংড়া উপজেলার বানভাসি মানুষের জন্য আর্শীবাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে এই জনদরদী নেতা । যিনি কথায় নয়, কাজে । বক্ততায় নয় কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে প্রকৃত জননেতারা এমনই হয় । দেশের বর্তমান অপরাজনীতি ও ফরমালিন নেতাদের ভীড়ে প্রকৃত খাঁটি জননেতার পরিচয় দিয়েছেন  পলক । বন্যাকবলিত মানুষের জন্য পলকেরভূমিকা ইতিহাস হয়ে রবে ।  চলনবিলের মা মাটির সন্তান ¯স্নেহের পলককে তাই স্যালুট না জানিয়ে পারলাম না । রংপুর, লালমনির হাট সহ উত্তরের জেলাগুলো যখন বন্যা কবলিত হওয়া শুরু করলো ঠিক তখন পলক নিজ নির্বাচনী এলাকা সিংড়া উপজেলার মানুষের জানমালের  সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন আর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করে সম্ভাব্য সকল প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন তিনি। কারণ , উত্তরের জেলা গুলোর বন্যার পানি আত্রাই নদী হয়ে যমুনা নদীতে গিয়ে পড়ে । তাই চলনবিলের মানুষকে বাঁচাতে যা যা করণীয় সবই করছেন পলক । বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে দূর্গতদের পাশে গিয়ে দাড়ালেন তিনি । বিল অঞ্চলের বিশাল জলরাশি উপেক্ষা করে ছুটে চলেছেন  গ্রামের পর গ্রাম । মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাঘবের জন্য হাটু পানি, মাঝা বা কোমড় সমান পানি ভেঙ্গে ছুটে চলেছে একজন মন্ত্রী । নিরাপত্তার ঘোরাটোপ আর মন্ত্রীত্বের প্রটোকল কিছুই তাকে আটকাতে পারছে না । নিরন্তর ছুটে চলেছে  বিল অঞ্চলের মানুষের জন্য খাবার নিয়ে ।আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে। অসুস্থদের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসার  ব্যবস্থা করতে   । বন্যা কবলিত মানুষের জন্য যা যা করণীয় তার সবই করছে । দুই একটা ঘটনা না বললেই নয় ।
যেমন বন্যার পানি বাড়ার সাথে সিংড়া উপজেলায় ১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খুললেন । সেখানে আশ্রয় পেলো প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ । নিজ উদ্যোগে সেই আশ্রিত মানুষদের প্রতিদিন তিনবেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন  । কয়েক হাজার মানুষের তিন বেলা খাবার খাওয়াতে কি পরিমাণ ব্যয় হয় তা হয়তো অনেকের ধারণার বাইরে । বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে নিয়মিত খাবার দেয়া হচ্ছে । আর সে জন্য তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পুরো চলনবিলে বন্যাদূর্গত একজন মানুষও না খেয়ে মারা যাবেনা । নিরহংকার পলক সেই সব বানভাসিদের সাথে খাবার খাচ্ছেন এক থালে বসে । দিনের বেশির ভাগ সময় বানভাসি মানুষের সাথে কাটিয়ে দিচ্ছেন । বন্যা শুরু পর থেকে ঘন ঘন নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন।
পুরো উপজেলার বন্যাদূর্গত প্রত্যেকটি এলাকার মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে খবর নিচ্ছেন পলক । শুনছেন তাদের অভাব অভিযোগ । সাধ্যমত সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করছেন । সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে যেভাবে সাপ পোকা মাকড়ের ভয় না করে  বন্যার  পানিতে নেমে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন  তা দেখে সত্যিই অবাক হলাম । এতোটুকু বুঝলাম .ফটোসেশন ,মিডিয়া কাভারেজ বা লোক দেখানোর জন্য  পলক এসব  করে না । যতটুকু করছে তা মনোযন্ত্রণার আপন তাগিদে । একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যা করেন বা করছেন তা দেখে রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নেয়া উচিত।
এই তো সেদিন সিংড়ায় গেলাম নিউজ কাভার করতে,  সেখানে নৌকা যোগে উপস্থিত হলো, ছোট ভাই পলক । নৌকার মাঝিকে বললাম, ভাই কই থেকে আসলে মন্ত্রীকে নিয়ে । সে বলল, ভাই সেই বিয়ানবেলা {ভোরবেলা } থেকে এ গ্রাম ও গ্রাম করে বেশ কয়েকটা গ্রামে গেনু । সিংড়ার মানুষ একটা মন্ত্রী পাইছে  ,ভাই।। মানুষের জন্য কত মহব্বত  ?  এমন এম পি মন্ত্রী পাওয়ায় ভাগ্যের ব্যাপার।
বন্যার নতুন পানিতে নেমে  হাটু পানি,কোমড় পানি ঠেলে ভেজা কাপড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বন্যাদূর্গতদের দোয়াড়ে দোয়াড়ে যাচ্ছে একজন মন্ত্রী। যার  ক্লান্তি বলে কোন জিনিস  নাই । অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এলাকার মানুষকে একটু ভালো রাখার জন্য। পৌর মেয়র,ইউপি চেয়ারম্যান সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবক টিম। যারা উদয়াস্ত সিংড়াবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
পলক বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সারাদিন পানিতে নেমে  বাড়ি বাড়ি গিয়ে বন্যার্তদের খোজ-খবর নিচ্ছেন।বানভাসি এ সব মানুষের জন্য  সরকারী ত্রাণের অপেক্ষা না করে   নিজ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা শুরু করেন । সরকার প্রধানের ¯স্নেহধন্য হওয়ায়  পেয়েছেন । প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি সার্বক্ষনিক বন্যার্তদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। দেশের আরোও বিশটি জেলায় বন্যা হয়েছে ।খবর নিয়ে দেখুন তো, কোন এলাকার কয়টা মন্ত্রী ,এমপি ও জন প্রতিনিধি পলকের মতো জনগণের পাশে বিপদের সাথী হয়েছে ।
মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের সিংড়ার অধিকাংশই মৎস্য চাষি। হঠাৎ বন্যায় এই উপজেলার সাত শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতি ৫০কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে পানি প্রবাহ অব্যহত রাখার জন্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির নির্দেশে সৌতি জাল অপসারন অব্যহত আছে। সৌতি জালের মালিকদের অনেকেই সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা ।। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আপোষহীন  পলক সৌতি জালের  মালিকদের কোন প্রকার ছাড় দেয়নি । সৌতি জাল অপসারণ করে পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখার ফলে বন্যার পানি অতি দ্রুত কমে যাচ্ছে ।।  এছাড়া তিনি নিজে বাঁধ নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। এই তো সেদিন ত্রাণ বিতরণ কেবল শুরু করেছেন  পলক। এমন সময় সেখানে খবর আসলো , বাঁধ ভেঙ্গে সিংড়া কলম  এলাকার পানি ঢুকছে । ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেতাকর্মীদের হাতে দিয়ে তিনি ছুটলেন ঘটনাস্থল চৌগ্রামে। অংশ নিলেন বাঁধ সংস্কারে।  প্রায় ৫০০ পরিবারের  ঘরবাড়ি  কেবল ডোবা শুরু করেছে । মানুষ জন নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে ছুটছেন । এ সময় পলক নেমে পড়লেন পানিতে । গেলেন বানভাসিদের  ঘরে ঘরে । তাদের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেন। এছাড়া করোনা এবং আম্পানে নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য প্রতিমন্ত্রী পলক যে ভূমিকা রেখেছেন তা সত্যিই প্রশাংসার দাবী রাখে। সব মিলিয়ে যা বুঝলাম । পলকের তুলনা শুধুই পলক । দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষ জনতার প্রতিনিধির কাছে  সেবা চাই । আর যে জনগণের প্রকৃত সেবা করে সেই তো জনসেবক । আর সে মানদন্ডে পলক উত্তীর্ণ । শুভকামনা নিরন্তর ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে