বসন্ত আর ভালোবাসায় উন্মাতাল দিন

0
54

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক: পলাশ, শিমুল, গাঁদা, গোলাপের রঙে রঙিন দেশ। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের উচ্ছ্বাস। এরসঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। রোববার তাই বাঁধভাঙা স্রোতে ভেসেছিল তারুণ্য। হলুদ-লাল শাড়ি ও পাঞ্জাবির পটে বাহারি শৈল্পিকতায় চিত্রিত হয়েছে ফাল্গুন। শুধু তরুণরাই নয়, অন্য বয়সিও যারা করোনার কারণে ঘর থেকে বের হননি এতদিন, এদিন মাঠে-পথে হেঁটেছেন দলবেঁধে। সব মিলে বসন্ত আর ভালোবাসার দিনটি কেটেছে উন্মাতাল আনন্দে।

বাসন্তী আবিরে ভালোবাসা ধরা দেওয়ায় রোববার রাজপথ থেকে গলিপথে নেমেছিল মানুষের ঢেউ। তা আছড়ে পড়েছিল রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন, বেইলি রোড, হাতিরঝিল, ধানমণ্ডি লেক, রবীন্দ্রসরোবর, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও উদ্যানে। বাদ যায়নি কোনো বিনোদন কেন্দ্র, শপিং মল, মার্কেট বা খাবারের দোকান। প্রিয়তমার খোঁপায় হলুদ গাঁদা পরিয়ে নরম হাতে লাল গোলাপ তুলে দিয়ে চোখে চোখ, হাতে হাত রেখে ঘর বাঁধার স্বপ্নে উত্তাপ ছড়িয়েছেন অনেকেই। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা আয়োজনে উদযাপন করেছে দিনটি।

শিল্পকলা একাডেমি : বিকালে একাডেমির নন্দনমঞ্চে ছিল নাচ, গান, আবৃত্তি ও আলোচনাসহ নানা আয়োজন। প্রথম পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড পারফরমিং আর্টস ও স্পন্দন নৃত্যদলের শিশুশিল্পীরা। বড়দের বিভাগে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল নৃত্যালোক, বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস, নৃত্যম, নন্দন কলা কেন্দ্র, মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়, ধৃতি নৃত্যনালয়ের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে দলীয়সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত দল ও ভাওয়াইয়া সঙ্গীত দল, সরকারি সঙ্গীত কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীরা। দ্বৈতসঙ্গীত পরিবেশন করে সাজেদ আকবর ও সালমা আকবর, ইবরার টিপু-বিন্দু কনা এবং খায়রুল আনাম শাকিল-কল্পনা আনাম। গান গেয়ে শোনান অপু আমান, সাব্বির, বিউটি ও দিতি সরকার।

নাটকের অংশবিশেষ পাঠ করেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী এবং অনন্ত হীরা ও নূনা আফরোজ। সবশেষে ব্যান্ডসঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যান্ডদল ‘স্পন্দন’।

জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ : অভিনেতা আলী যাকেরের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসন্ত উদযাপন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। গান, কবিতা, দলীয় নৃত্য আর বসন্তকথন দিয়ে সাজানো ছিল এবারের আয়োজন। ফাগুনের প্রথম দিনের সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে যন্ত্রশিল্পী দীপেন সরকারের সুরের মধ্য দিয়ে ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানে এবারের আয়োজনের সূচনা ঘটে।

উৎসবের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। কাজল দেবনাথের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন মানজার চৌধুরী সুইট।

বাচ্চু বলেন, ২৭ বছর ধরে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বসন্তকে বরণ করি। আশা করি, করোনাকালের ভয়াবহতা কাটিয়ে আসছে বসন্তে আমরা আবার মিলিত হতে পারব দারুণ প্রাণের সম্মিলনে।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী। গান গেয়ে শোনান বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, সঞ্জয় কবিরাজ, কাইয়ুম, রাজিয়া মুন্নি, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী, আঞ্জুমান ফেরদৌস কাকলি ও মারুফ। কীর্তন পরিবেশন করেন তাপসী ঘোষ।

সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে সুরসপ্তক, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল স্পন্দন, আঙ্গীকম, ধ্র“পদ কলা কেন্দ্র, ভাবনা, মুদ্রা ক্লাসিক্যাল ড্যান্স, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, স্বপ্নবিকাশ কলাকেন্দ্র, সাধনা সংস্কৃতি মণ্ডল, নৃত্যাক্ষ, সুরবাহার ও নৃত্যম এবং মারমা সম্প্রদায়। নজরুলসঙ্গীতের সঙ্গে যুগল নৃত্য পরিবেশন করে ধ্রুপদী নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। একক নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব প্রমুখ।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছিল এ আয়োজন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গেণ্ডারিয়ার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সীমান্ত-সাহারা মঞ্চে ও উত্তরার ৬নং সেক্টরের আজমপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে