বাবা-মা’র কবরের পাশে সমাধিস্থ : অশ্রুভেজা শেষ বিদায় ম্যারাডোনাকে

0
39

অনলাইন ডেস্ক : শৃঙ্খলা তার কাছে ছিল পরাধীনতার শিকল। সভ্য সমাজের বেঁধে দেয়া যাবতীয় নিয়মকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গেছেন আমৃত্যু। অতুলনীয় ফুটবল-জাদু ও ব্যাকরণ-ভাঙা আশ্চর্য অকপট যাপিত জীবন মিলিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন এক উথাল-পাতাল আবেগের নাম।

দেশ, কাল, অঙ্গন ছাপিয়ে আমজনতার হৃদয়ের নায়ক। আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরের শেষ বিদায়েও বিশ্ব দেখল বাঁধভাঙা আবেগের অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ। অশ্রু আর রক্তের প্লাবন মিলে গেল এক মোহনায়।

‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়’ ম্যারাডোনার বিদায়বেলায় ভক্তদের সহিংস মাতম আর আহাজারি যেন কবিগুরুর কবিতার চরণকে মনে করিয়ে দেয়। ম্যারাডোনাকে কেউ যেতে দিতে রাজি নয়। তবু যেতে দিতে হয়।

’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগে ভেসে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে অগণিত ভক্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয় পুলিশকে। উত্তেজিত জনতা বোতল ও পাথর ছুড়ে মারছিল।

‘যুদ্ধ’ থামার পর আরেক অভূতপূর্ব দৃশ্য। রক্তাক্ত ভক্তদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যরাও কাঁদছেন! এমন শোক-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আর আবেগের জোয়ারের মধ্যেই বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ম্যারাডোনা।

দিনভর লাখো মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানালেও বুয়েনস এইরেসের শেষকৃত্য আয়োজন ছিল একান্তই পারিবারিক। পরিবার ও কাছের বন্ধু মিলিয়ে মাত্র ২৪ জনের মতো অংশ নেন ম্যারাডোনার শেষকৃত্যে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আর্জেন্টিনার রাজধানীর অদূরে বেল্লা ভিস্তা সমাধিস্থলে মা-বাবার সমাধির পাশেই সমাহিত করা হয় ম্যারাডোনাকে।

শহরের মধ্য দিয়ে তার কফিন বহনকারী গাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা চোখে প্রিয় নায়ককে শেষ বিদায় জানান ভক্তরা।

এর আগে কাসা রোসাদার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দিনভর ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লাখো ভক্ত। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা ও ম্যারাডোনার প্রতীকে পরিণত হওয়া ১০ নম্বর জার্সিতে মোড়ানো ছিল কফিন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের লাইন তিন কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। বিকেল ৪টায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের ফটক বন্ধ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে লেগে যায় ভক্তদের।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সারতে সমাধিস্থলে এক হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমানো ম্যারাডোনার মৃত্যুর তদন্তের দাবি উঠেছে আর্জেন্টিনায়। মৃত্যুর আগে বেশ অসুস্থ ছিলেন ফুটবল রাজপুত্র।

মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। হাসপাতাল ছাড়ার পর পুনর্বাসনের জন্য তাকে নেয়া হয়েছিল একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে।

সেখানে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা, ‘মৃত্যুর আগে ১২ ঘণ্টা আমার বন্ধুকে দেখতে যায়নি কোনো চিকিৎক। অ্যাম্বুলেন্স আসতেও আধা ঘণ্টার মতো দেরি হয়েছে। এটা শাস্তি পাওয়ার মতো বোকামি। সবকিছুর তদন্ত হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে