বিএসএমএমইউতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস উদযাপন

0
170

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস পালিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার এর সহযোগিতায় গত সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবসটি পালিত হয়। ২০০১ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উদযাপনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে।

ক্যান্সারজয়ী শিশুদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের বিদ্যমান ক্যান্সার চিকিৎসা নানা ধরনের আধুনিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৯ সালে ৬০ ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে, যা বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার একটি মাইলফলক।

র‌্যালী শেষে ক্যান্সারজয়ী শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করে ক্যান্সার আক্রান্ত এবং ক্যান্সারজয়ী শিশুদের অভিভাবকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একজন অভিভাবক  বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার অভিজ্ঞতার সাথে তুলনা করে বলেন, বিদেশের মত দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সম্ভব। তারা হাসপাতালে সার্বিক পরিবেশ এবং ডাক্তারদের আন্তরিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংবাদকর্মীদের অনুরোধ জানান এই তথ্যগুলো আরও বেশি করে প্রচার করতে যাতে করে সাধারণ মানুষ এই তথ্যগুলো জানতে পারে।

ওর্য়াল্ড চাইল্ড ক্যান্সার এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জুয়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার সরকারের সাথে সহযোগী হয়ে কাজ করছে। প্যারেন্টস সাপোর্ট সংগঠন আশিক ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান সালমা চৌধুরী দূর দূরন্ত থেকে আগত রোগীদের আবাসন সংকট সমাধানে তার প্রাতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা বলেন ও ভবিষ্যতে রোগীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া আরো সংগঠনকে এই ধরনের মানবিক কাজে দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন ক্যান্সার চিকিৎসায় ঠিক ডায়াগনোসিস এবং সঠিক ট্রিটমেন্ট অত্যন্ত জরুরী বিষয় ও এটি নিশ্চিত করতে পারলে ৮০-৯০ ভাগ সফল হওয়া সম্ভব।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিশু অনুষদের ডীন এবং শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রাত্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল বলেন, ক্যান্সার ধরা পড়ার পর যদি আমরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারি, তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন শিশু ক্যান্সার নিরাময় যোগ্য। চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে শেষ করার ব্যাপারে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার সাফল্যের জন্য শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রশংসা করেন এবং চিকিৎসার প্রতিবন্ধতা দূরকরণে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার আশা ব্যক্ত করেন ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন তার বক্তব্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং শিশু ক্যান্সার চিকিৎসায় তাদেও নিরলস অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: মো: জাহিদ হোসেন শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়নে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দেন এবং উন্নত শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. আনোয়ারুল করিম তার বক্তব্যে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হয়েও বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার প্রভূত সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন আমাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, তাই আত্মতুষ্টিতে না ভুগে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এই লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমস্যার সমাধান পাওয়া গেলে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশেই উন্নত দেশের সমতুল্য ফলাফল অর্জন সম্ভব।

ক্যান্সারজয়ী শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি গান, গজল, হামদ্-নাত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ এনে দেয়। অনুষ্ঠানের শেষে চিত্রাংকনে অংশগ্রহনকারী শিশুদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে