ভালোবাসার হাত ধরে এল বসন্ত

0
148

বসন্ত এল। এবার ভালোবাসার হাত ধরেই এসেছে বসন্ত। কুয়াশার আঁচল সরিয়ে ঋতুরাজ সোনালি রোদে ভরে দিচ্ছে আকাশ। প্রাণের উষ্ণতা সঞ্চার করছে শীতে মৃতপ্রায় প্রকৃতিতে। শিমুল-পলাশ-অশোকের শাখা ভরে উঠেছে রক্তিম ফুলের সম্ভারে। মাঝে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় দুলে উঠছে সেই কুসুমশোভিত শাখা। নতুন কিশলয়ের পসরা তরুলতায়। যেন নতুন হয়ে উঠেছে পুরোনো পৃথিবী। রবীন্দ্রনাথের গান দিয়েই বসন্তবরণের প্রসিদ্ধ রেওয়াজ—‘মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে,/ মধুর মলয়সমীরে মধুর মিলন রটাতে।’

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ভ্যালেন্টাইনস ডে। ভালোবাসার প্রত্যয়কে চিরঞ্জীব করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ভালোবাসার এই দিবস উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে বহুকাল আগে থেকে। বাংলাদেশে ২৭ বছর আগে এই ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসের সূচনা।

‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ এমন ভাবনায় কেটেছে যেসব মানব-মানবীর, তাঁদের মনের না-বলা কথা প্রস্ফুটিত হবে আজ ভালোবাসা দিবসে। ভালোবাসা নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান মুখে মুখে ফিরবে। একই সঙ্গে প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই স্বপ্ন বুনবেন সুন্দর ভবিষ্যতের। তবে আজকের এ ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নয়। ভালোবাসার এই দিবস সর্বজনীন। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, বন্ধু সর্বোপরি মানুষে মানুষে ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার দিন আজ। আজকের এই দিনে মুঠোফোনে খুদে বার্তা, ই-মেইল কিংবা ফেসবুকে জানান দেওয়া হবে ভালোবাসার কথা। প্রিয়জনকে দেওয়া হবে নানা উপহার।

বরাবরই নানা আয়োজনে বসন্তবরণের ঘটা থাকে শহরজুড়ে। ব্যতিক্রম হবে না এবারও।

নগরে বসন্ত উৎসব
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বসন্ত উৎসব ১৪২৬’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দিনব্যাপী সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত, সদরঘাট-সংলগ্ন ওয়াইজঘাট বুলবুল ললিতকলা একাডেমির মাঠ (বাফা) এবং উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্রসরণির উন্মুক্ত মঞ্চে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে রাত ৮টা অবধি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সকাল সাতটায় সুস্মিতা দেবনাথ ও সহশিল্পীদের ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে