মনিরুলের লাগানো শত শত তালগাছের সুফল পাচ্ছেন এলাকাবাসী

0
20

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর
পাবনার চাটমোহরের মুলগ্রাম ইউনিয়নের ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামের আবু বক্কারের ছেলে মনিরুল ইসলাম এখন থেকে প্রায় ৯ বছর আগে যে মহত উদ্যোগ নিয়েছিলেন এখন তার সুফল পাচ্ছেন এলাকাবাসী। মূলগ্রাম ইউনিয়নের কানখোলা থেকে চাঁদের বাজার অভিমুখী গ্রামীন কাঁচা সড়কটির দুপাশে প্রায় সাত শত তাল বীজ রোপণ করেছিলেন মনিরুল। চাটমোহর-পাবনা সড়কের পাশেও তিনি প্রায় দুইশত তাল বীজ রোপণ করেছিলেন। তার লাগানো প্রায় তিন শত তালগাছ টিকে আছে এখন। আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে উঁকি মেরে থাকা তালগাছ গুলো এলাকার সৈন্দর্য বর্ধনে যোগ করছে বাড়তি মাত্রা। পাশাপাশি শীতল ছায়া দিচ্ছে এলাকাবাসীকে।
তাল গাছ গুলো বুকে ধারণ করে কয়েক বছরের ব্যবধানে অপরুপ সৌন্দর্য্যের ধারকে পরিণত হয়েছে কানখোলা-চাঁদের বাজার অভিমুখী গ্রামীন কাঁচা সড়কটি। সড়কের দুপাশে লাগানো সাড়িবদ্ধ তালগাছ গুলো সড়কটিকে সৌন্দর্য্যের আধারে পরিণত করেছে।
মনিরুল ইসলাম জানান, কানখোলা-চাঁদের বাজার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার ও চাটমোহর-পাবনা সড়কের পাশের কিছু এলাকায় এখন থেকে নয় বছর আগে আমি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় এক হাজার তালের বীজ রোপণ করি। এখন প্রায় তিনশত গাছ বেঁচে আছে। বেশ বড় হয়েছে গাছ গুলো। বাড়ি বাড়ি থেকে চেয়ে ও তাল গাছের নিচে পরে থাকা পঁচা নষ্ট তালের বীজ সংগ্রহ করে এলাকার তিন চার জন কিশোরের সহায়তায় আমি গাছ গুলো লাগিয়েছিলাম। এখন এই ভেবে ভাল লাগে যে আমার নিজ হাতে রোপণ করা প্রায় তিনশ তাল গাছ এলাকার সৌন্দর্য্য বর্ধনে ভূমিকা রাখছে। সড়কের দুই পাশে মাঠ। প্রখর রোদের তাপ থেকে রক্ষা পেতে শ্রমিক, কৃষকেরা রাস্তার পাশের তাল গাছের শীতল ছায়ায় কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দূর দূরান্তের মানুষ বেড়াতে আসেন এ সড়কে। পথচারীরা অপলক উপভোগ করেন এ তাল সড়কের সৌন্দর্য্য।
মনিরুলের বাবা আবু বক্কার জানান, আমার ছেলে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় পিতা হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। ২০১৬ সালে পাবনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করে মনিরুল। অনেক চেষ্টা করেও চাকুরী পায়নি। বাড়িতেই ছোট একটি মুদী দোকান দিয়ে সেটি দেখাশুনা করছে মনিরুল। উক্ত এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ হামজু জানান, মনিরুল পরিবেশ সচেতন ছেলে। সে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা এখন সুফল ভোগ করছি। তিনি আরো জানান, কানখোলা-চাঁদের বাজার সড়কটি জন গুরত্বপূর্ণ। হিড়িন্দা, সোহাগবাড়ি, পবাখালী, কচুগাড়ি, খতবাড়ি, আটলংকা, দক্ষিণ সেনগ্রাম, দুবলিয়া এলাকার মানুষ এ সড়কটি বেশি ব্যবহার করে। আটলংকা গ্রামে স্কুল কলেজসহ অনেক প্রতিষ্ঠান থাকায় এ সড়ক হয়ে চলাচল করে অনেক শিক্ষার্থী। বর্ষাকালে প্রায় ৬ মাস সড়কটি চলাচলের অযোগ্য থাকে। তখন আশ পাশের প্রায় দশ পনেরো গ্রামের মানুষকে শিমুলতলা এলাকা হয়ে অনেক ঘুরে চাটমোহর-পাবনা সড়কে উঠতে হয়। এ তাল সড়কটি পাকাকরণ করলে একদিকে যেমন সৈন্দয্য বর্ধন হবে তেমনি এলাকাবাসীর সমস্যার সমাধানও হবে।
মুলগ্রামের আব্দুস সালাম ও বন্যাগাড়ি গ্রামের মামুন হোসেন জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মনিরুল যে ভূমিকা রেখেছে তা প্রশংসার দাবীদার। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তাল গাছ রোপণের উপর গুরত্ব দিচ্ছেন। রাস্তাটি এখন অনেক দৃষ্টি নন্দন। প্রকৃতি প্রেমীরা তালগাছের সৌন্দর্য ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে এ সড়কে আসেন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বজ্রপাত রোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে মনিরুলের লাগানো তালগাছগুলো। তিনি যদি আরো গাছ লাগাতে আগ্রহী থাকেন তবে আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গাছের চারা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে