মমতার সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা: অটুট থাকবে দু’দেশের সম্পর্ক

0
75

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম দিন-রাতের ম্যাচ ঘণ্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে এ ঐতিহাসিক টেস্টের সূচনা করেন তারা।

পরে সন্ধ্যায় দুই নেত্রী একান্তে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা লাভের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। তখন এক কোটি বাংলাদেশিকে ভারতবাসী আশ্রয় দিয়েছিল। তাই আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে। আমরা পাশাপাশি থাকি, দু’দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব রয়েছে। এই সম্পর্ক আরও অটুট ও নিবিড় হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

আর মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘কথা হয়েছে ঘরোয়া পরিবেশে। দুই দেশের নানা বিষয় নিয়ে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়েছে। ওনাকে ফের কলকাতা আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

খেলার মাঠেই মমতার সঙ্গে দু’দফায় দেখা ও কথা হয়েছিল শেখ হাসিনার। পরে সন্ধ্যায় মোট ৫৪ মিনিট বৈঠক হয়। এরপর ২৯ মিনিট রুদ্ধদ্বার একান্ত বৈঠকে ছিলেন দুই নেত্রী। তার আগে ২৫ মিনিটের যে বৈঠক হয় সেখানে দুই নেত্রী ছাড়াও ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা দাস গাঙ্গুলী ও পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের সূচনা অনুষ্ঠানে মমতাকে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আগামী বছর এ কর্মসূচি শুরু হবে।’

গোলাপি টেস্টের উদ্বোধন : শেখ হাসিনা ও মমতা যখন ঘণ্টা বাজিয়ে ঐতিহাসিক টেস্টের উদ্বোধন করেন তখন পাশে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ সময় সেখানে ছিলেন। ছিলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের খেলোয়াড়রাও। শচীন টেন্ডুলকার, কপিল দেব, ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো ক্রিকেটাররাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে সৌরভ বলেন, ‘উপমহাদেশের এ ঐতিহাসিক ম্যাচ দুই বাংলার দুই শীর্ষ নেত্রীর হাত দিয়ে সূচনা হওয়াটা একটা মাইলস্টোন। এ মুহূর্তটা আমাদের সবার কাছে খুবই গর্বের।’ আর শেখ হাসিনা-মমতাকে মাঠে পেয়ে খুশি ছিলেন শচীনের মতো তারকাও।

কলকাতায় প্রথম দিন-রাতের টেস্টে মাঠে ছিল তারকার সমাবেশ। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই ভরে গিয়েছিল ইডেনের গ্যালারি। গোলাপি টেস্ট ঘিরে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। চা ব্রেকের সময় মাঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা ও মুম্বাইয়ের জিৎ গাঙ্গুলি। রুনা দুটি বাংলা ও একটি হিন্দি গান গেয়ে শোনান।

খেলা শুরুর আগে মাঠে গিয়েই দু’দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিচিত হন শেখ হাসিনা ও মমতা। পরে ক্লাব হাউজের ভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তার পাশে বসেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলী। এরপর ইডেনের ক্লাব হাউজেই মধ্যাহ্নভোজ সারেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তখন মমতার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয়।

প্রধানমন্ত্রী রাত ১০টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে