মাত্র এক টাকায় সারাদেশে ডেলিভারি দিচ্ছে আলাদীনের প্রদীপ ডটকম

0
592

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে বেকারত্বের হার বেড়েই চলছে। করোনাকালে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে এই সংখ্যা। বেড়েছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও। এছাড়া দেশে প্রতি বছর চাকরির বাজারে যুক্ত হচ্ছেন লাখ লাখ তরুণ-তরুণী। কিন্তু চাকরি পাচ্ছেন কতজন? এ প্রশ্নও উদ্বেগের। এ অবস্থায় অনেক তরুণদেরকেই দেখা যায় ব্যবসায় নামতে। কিন্তু নিরাপদ পরিবেশ, পারিবারিক সমর্থন, ধৈর্য‍্য, সঠিকভাবে মূলধন খাটানোর জায়গা চিহ্নিত করার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে তারা ঝরে পরে। তবে এসবকিছু ঠিক থাকলে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই সফলতার মুখ দেখা যায়। যা প্রমান করে দিয়েছেন অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলাদিনের প্রদীপ ডটকমের প্রধান নির্বাহী মেহেদী হাসান মুন।

আলাদীনের প্রদীপ এর পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। অল্প দিনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সব উদ‍্যোক্তাকে এক ছাদের নিচে আনতে এক অভিনব উদ‍্যোগ নিয়েছে এটি। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ‍্যোক্তাদের মাঝে ব‍্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মেহেদী হাসান মুন বলেন, বছর খানেক হলো আমাদের যাত্রা শুরু। চারিদিকে যখন সবাই বিসিএসের মাতোমে আছে সেখানে আমরা ভিন্নধর্মী কিছু করতে চাই। অনলাইন বিজনেসে এসে আমরা লক্ষ্য করি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রচুর উদ‍্যোক্তা রয়েছে এবং তারা ক্ষুদ্র হওয়ায় খুব বেশি জনগণের কাছে পৌছাতে পারছিল না। জনগণের আস্থা অর্জনও কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকেই বিভিন্ন জটিলতায় বিজনেসে তেমন সময়ও দিতে পারছিল না। তাই আমরা গত দু’মাস ধরে উদ্দ‍্যোগ নিয়েছি বিনা চার্জে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ‍্যমে সব ক্ষুদ্র উদ্যোগতাকে একছাদের নিচে এনে এক বিশাল প্লার্টফম তৈরী করে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়া। তিনি আরো বলেন, আমরা ব‍্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা বতর্মান অনেক অনলাইন বিজনেস ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ‍্যে অল্প কিছুদিনেই মধ‍্যেই প্রায় ৪৩০ টি শপ আমাদের এখানে রেজিষ্ট্রেশন করেছে এবং ৩৫০০+ পোডাক্ট আছে। রেজিষ্ট্রেশন করার পর উদ‍্যোক্তাদের কোন ফি বা কমিশন কেটে রাখা হবে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে কোন ফি নেই, আমরাই বিজ্ঞাপনসহ প্রচারণা করব এবং আমরাই ডেলিভারিও দিব। আমাদের অনেক যোগ‍্যকর্মী আছে তারা সার্বক্ষণিক সেবা দিবে। সেলার ও কাস্টমার সাপোর্টসহ সকল ধরনের সেবা নিশ্চিত করবে আলাদীনের প্রদীপ।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশে ব‍্যবসার ক্ষেত্রে মেয়েদের ব‍্যাপক চ‍্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। পারিবারিক বাধাসহ পারিপার্শিক অবস্থা তাদের অদম‍্য ইচ্ছাকে এক সময় থামাতে বাধ‍্য হয়। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এই উদ্দ‍্যোগের ফলে তাদের সব বাধা দূর হবে এবং তারাও সমানতালে এগিয়ে যেতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দ‍্যোক্তাদের মাঝে এতোমধ‍্যে এটি আলোড়ন তুলেছে। নিজেদের চাকরি নিজেরাই তৈরী করে দেশের আরো তরুণের কর্মসংস্থানের ব‍্যবস্থা করবে তরুণরাই। সবাই এক হয়ে একসময় এক বৃহৎ প্লার্টফম গড়ে উঠবে।। সাথে সাথে দেশীয় পণ্যের মান ও আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা মনে করি। এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই এক সময় বৃহৎ হয়ে উঠবে এতে দেশের উন্নয়ন এ এক বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবো বলে আমরা আশা রাখি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে