মুজিব বর্ষে বড় বাজেট দিয়ে কর্মসূচি না দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

0
84

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ বা কর্মসূচি না দিতে মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ বাজেটের মধ্যে থেকে ভালো কর্মসূচি পালনের কথা বলেছেন তিনি। সোমবার ঢাকায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা বলেন। এর আগে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে দীপু মনিকে ভর্ৎসনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি বগুড়ার পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করতে গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখোশ পরে তাকে স্বাগত জানায়। এ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীপু মনিকে ভর্ৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র জানায়, বগুড়ার ঘটনায় খুবই চটে যান শেখ হাসিনা। দীপু মনির কাছ থেকে এমনটি তিনি আশা করেননি বলেও তাকে ভর্ৎসনা করেন।
বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে বাড়তি ব্যয় না করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এটাই মুজিব বর্ষের চেতনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী, সব স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নরমাল বাজেট থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যেন উল্লেখ করার মতো কর্মসূচি ঘোষণা করে। বড় বাজেট দিয়ে নতুন কর্মসূচি নয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘অহেতুক’ নতুন কর্মসূচি না নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কর্মসূচি ঘোষণারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা প্রিসাইসলি বলে দিয়েছি যে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার একটা নোটেবল প্রোগ্রামকে মুজিব বর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করবে, তার নরমাল বাজেট থেকে। যদি একসেপশনাল কোনো কাজ থাকে তার জন্য এক্সট্রা টাকা চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ করার দরকার নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রোগ্রাম নিতে বলা হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে একটি বাস্তবায়ন কমিটি করেছে সরকার। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আটটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। মুজিব বর্ষ পালনে যেন বাড়াবাড়ি না করা হয় সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পালনের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কীভাবে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি ঘোষণা করা যায়, সেই উদাহরণও তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অর্থ বিভাগ মুজিব বর্ষ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রোগ্রাম নিল ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লাখ পেনশনারের বাড়িতে বসে পেনশন দিয়ে দেবে। এই প্রোগ্রামটা তারা মুজিব বর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছে। কোনো কোনো প্রোগ্রাম করতে গিয়ে যদি ফান্ড লাগে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী আনবেন, এটার জন্য পেমেন্ট করতে হবে। স্টেজ হবে এ জন্য আলাদা টাকা দেওয়া হবে না, পিডব্লিউডি তার মেইনটেনেন্স বাজেট থেকে করে দেবে। পেমেন্টের দরকার হলে এএফডি তার বাজেট থেকে করে দেবে, এ জন্য আলাদা কোনো টাকা দেওয়া হবে না।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মুজিব বর্ষে সবাইকে নতুন কিছু করার দরকার নেই। যে প্রোগ্রামটা মানুষের কল্যাণে বা দেশের উন্নয়নে কনট্রিবিউট করতে পারি ওটা মুজিব বর্ষের সঙ্গে মোর সিনোনিমাস, ওই জাতীয় প্রোগ্রাম, নারমাল যে প্রোগ্রামটা আছে সেটাকে আরও ইফেকটিভ করে দেন। ২০২১ সালের ১৭ মার্চের আগে পদ্মা সেতুর ফিজিক্যাল কাজ শেষ করে দেব, এটাকে মুজিব বর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করলাম। এ জন্য টাকা লাগবে কিন্তু ওই টাকা তো ওই প্রজেক্টে ধরাই আছে। কাজটা হয়তো আরও তিন মাস হতো, এটাকে বেশি এফোর্ট দিয়ে মার্চ মাসের মধ্যে করার চেষ্টা করব।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে সরকার জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করে। আর তার জন্মতারিখ অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে ‍শুরু হয়ে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে মুজিব বর্ষের কর্মকাণ্ড।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তাঁর হাত ধরেই বিশ^ মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে