রাজশাহীতে লকডাউন, রাস্তাঘাট ফাঁকা

0
21

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন। আজ বিকেলে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহীতে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে এই বিধিনিষেধ শুরু হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্বঘোষিত সময়ের আগেই নগরের প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়। তারা শহরমুখী সব ধরনের পরিবহন ফিরিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই নগরের প্রধান প্রধান সড়কও ফাঁকা হয়ে যায়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা সার্কিট হাউসে রাত ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সভা শেষে রাজশাহীতে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. হ‌ুমায়ূন কবীর। ঘোষণা অনুযায়ী, এই সাত দিন নগরে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট বাদে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহন রাস্তায় চলবে না। পরে ওই দিন রাতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকরে মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান। শুক্রবার বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায়
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকরে মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান। শুক্রবার বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায়ছবি: শহীদুল ইসলাম
লকডাউন শুরুর খবরে সকাল থেকেই নগরে মানুষের ভিড় ছিল। মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেনাকাটা করেছেন। কাঁচাবাজার, মুদিখানার দোকানে উপচে পড়া ভিড় ছিল। সকাল থেকে পুলিশও তৎপর ছিল। পুলিশ মাইকিং করে বলছিল, লকডাউনের এই সাত দিনে নগরবাসী কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না। দুপুরের পর থেকেই মানুষের আনাগোনাও কমতে থাকে। আর বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও নগরের প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়।

বিজ্ঞাপন

বিকেল সাড়ে ৪টার পর সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের কুমারপাড়া এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাসহ সব ধরনের গাড়ি চলে যেতে বলছেন। শহরের দিকে প্রবেশ করা অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের পরিবহন ফিরিয়ে দেয় তারা। নগরের সবচেয়ে বড় আরডিএ মার্কেট শুক্রবার এমনিতেই বন্ধই ছিল। নগরের অন্যান্য বিপণিবিতান সকালের দিকে খোলা থাকলেও বিকেল ৫টার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ দোকানে দোকানে গিয়ে সেসব বন্ধ করে দেয়। বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত রাজশাহী নগর থেকে গণপরিবহন ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। নগরের শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে এদিন শেষ মুহূর্তের বাসগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল। তবে বিকেল ৫টা বাজার আগেই পুলিশের তৎপরতাই সব বাস কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর আগে রাজশাহী নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের বাসে ওঠার হিড়িক। শুক্রবার বিকেলে
সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর আগে রাজশাহী নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের বাসে ওঠার হিড়িক। শুক্রবার বিকেলেছবি: শহীদুল ইসলাম
নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে রাজশাহীর প্রধান প্রধান সড়ক ঘোরেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারও ছিলেন। পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, জুমার নামাজের পর থেকে নগর পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও অন্যান্য ফোর্স সবাই একযোগে কাজ শুরু করেছে। নগরে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের জন্য শুক্রবার বিকেল থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। মহানগরে জরুরি প্রয়োজনের দোকানপাট ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। অটোরিকশাসহ সব ধরনের পরিবহনও বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে তিনি নগরবাসীর সহায়তা চান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে