লালপুরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

0
63

লালপুর প্রতিনিধিঃ সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে ও স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে প্রকাশ্যে দিবালোকে এবং রাতের অন্ধকারে নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন সহ ১০টি ইউনিয়নের ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে শত শত বিঘা জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আবাদি জমির উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে। কমতে শুরু করেছে ফসলের উৎপাদন।

এছাড়া মাটি ভর্তি ও খালি ট্রাক্টর ও ট্রাক যাওয়া আশার কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটায় মালিকরা ও মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে।এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে উৎকোচ মাধ্যমে তাদের ম্যানেজ করে ভূমিদস্যুরা পুকুর খনন করে মাটি বিক্রিয়ের হিড়িক লাগিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার লালপুর সদর, ঈশ্বরদী, এবি, আড়বাব, বিলমাড়ীয়া, দুড়দুড়িয়া, ওয়ালিয়া, দুয়ারিয়া, চংধুপইলসহ কদিমচিলান ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় চলছে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব। কিছু এলাকায় প্রকাশে দিবালোকে সহ বিভিন্ন এলাকায় রাত ১০টা থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্থানে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে নিয়ে ইটভাটায় ইট তৈরি সহ বিভিন্ন স্থাপনায় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২টি অবৈধ ইটভাটা আছে বলে জানা গেছে। এসব ইটভাটায় ইট তৈরির কাজে মাটির চাহিদা পূরণ করতে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

মাটির ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছে থেকে প্রতি বিঘা জমির মাটি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।এতে ফসলি জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য ঘাটতির আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে সচেতন মহল জানান, ফসলি জমিতে পুকুর খনন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের যে সকল সদস্যরা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

এবিষয়ে উপজেলার বিশম্বপুর গ্রামের কৃষক সোলেমান হোসেন বলেন, আমার পুকুর সংস্কারের জন্য কাজের শুরু করি। এতে প্রশাসন বাধা সৃষ্টি করছে। অথচ ভূমিদস্যুরা ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মাটি ইটভাটায় বিক্রয় করছে। প্রশাসন তাদেরকে মাটি খনন করতে বাঁধা সৃষ্টি করছে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা নিষিদ্ধ।তবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় কে অবগত করবো। এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাম্মী আক্তার বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন,ভেকু চলাকালীন অবস্থায় আপনারা খবর দিবেন। অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে