শনাক্তের হার ৮.৫৩ ভাগঃ করোনায় দৈনিক শনাক্ত ফের দুই হাজার ছাড়াল

0
27

অনলাইন ডেস্ক: দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় প্রায় চার মাস পর শনাক্ত ফের দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২ হাজার ২৩১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। একদিনের ব্যবধানে ৫০ শতাংশ রোগী বেড়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেদিন ২ হাজার ৩২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩১ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১০৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত একদিনে দেশে মোট ২৬ হাজার ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা আগের দিন ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার এর চেয়ে বেশি ছিল। সেদিন প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮ দশমিক ৬৫ জনের কোভিড পজিটিভ এসেছিল।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময় গত বছরের জুলাই-আগস্টে দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর তা কমতে কমতে দুই শতাংশের নিচে নেমে আসে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়।

সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন ২০৮ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫১ হাজার ১১৩ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। এই হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৭১৩ জন। যা আগের দিন ১৪ হাজার ৬৯৩ জন ছিল।

গত এক সপ্তাহে দেশে মোট ৭ হাজার ২৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩ হাজার ২১৩ জন। অর্থাৎ এক সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১২৫ দশমিক ১ শতাংশ। আর গত সাত দিনে মারা গেছেন আরও ২৫ জন, আগের সপ্তাহে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭ জন। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জনেরই কোনো না কোনো ধরনের দুরারোগ্য অসংক্রামক ব্যাধি বা কোমরবিডিটি ছিল। তাদের ৮০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে এবং ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। আর গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১৯০৮ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের ৮৫ শতাংশের বেশি। দেশের ১৭টি জেলায় একদিনে কারও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই পুরুষ। তাদের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তাদের দু’জন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনের ২৬ হাজার ১৪৩টি নমুনা মিলিয়ে এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৮টি নমুনা। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। গত বছর ৩১ আগস্ট তা ১৫ লাখ পেরিয়ে যায়। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে ২০২১ সালের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশ্বে পাঁচ দিন পর ২০ লাখের নিচে দৈনিক সংক্রমণ : বিশ্বে পাঁচ দিন পর ২০ লাখের নিচে নামল করোনাভাইরাসের দৈনিক সংক্রমণ। ওমিক্রনের হানায় গেল বছরের শেষ দিকে হুহু করে বাড়তে থাকে করোনা। চলতি বছরের শুরুতে তা ‘সুনামিতে’ রূপ নেয়। ৪ জানুয়ারি থেকে টানা পাঁচ দিন ২০ লাখের ওপরে ছিল দৈনিক সংক্রমণ। এর মধ্যে ৭ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত হয়েছিল রেকর্ড ২৭ লাখের বেশি। রোববার সংক্রমণ কমে ১৮ লাখে নেমেছে। তবে ভারতে ঝড়ের গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে প্রতিদিনই শনাক্তের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। সৌদি আরবে শিশুদের স্কুলে ফেরাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাইপ্রাসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ডেল্টা ও ওমিক্রনের সংমিশ্রণে সৃষ্ট করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টাক্রন’ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রোববার) বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে ৮ লাখ ২৯ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। আমেরিকা মহাদেশে ৫ লাখ ৩৩ হাজার, এশিয়ায় তিন লাখ ৭৪ হাজার, আফ্রিকায় ২৯ হাজার ও ওশেনিয়ায় ১ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্বে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩০ কোটি ৮০ লাখের বেশি, মোট মৃত্যু ৫৫ লাখ ৭ হাজার জনের। রোববার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এদিন সাড়ে ৩ লাখ ৮ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। এ সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ৩০৮ জন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতেও সংক্রমণ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ফ্রান্সে একদিনে ২ লাখ ৯৬ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে, এদিন দেশটিতে মারা গেছেন ৯৬ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে এক লাখ ৪১ হাজার, জার্মানিতে ৩০ হাজার, আর্জেন্টিনায় ৭৩ হাজার এবং ইতালিতে ১ লাখ ৮ হাজার করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ভারতে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড : ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এক লাখ ৭৯ হাজার ৭২৩ জনের দেহে করোনা ধরা পড়েছে। গেল সাত মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। একই সময়ে মারা গেছেন ১৪৬ জন। এর মধ্য ২৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ওমিক্রনের রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ৩৩ জন। দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। আর সাপ্তাহিক গড় হিসাবে শনাক্ত রোগী বেড়েছে সাত দশমিক ৯২ শতাংশ। ভারতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্যগুলোর একটি মহারাষ্ট্র। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৪৪ হাজার ৩৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর প্রাণহানি ঘটেছে বারো জনের।

শিশুদের স্কুলে ফেরাতে প্রস্তুত সৌদি : সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, করোনা মহামারির কারণে ১৮ মাসেরও বেশি বন্ধ থাকার পর আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল পুনরায় চালু করা হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইবতিসাম আল-শেহরি বলেন, অভিভাবকদের কাছে এ সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির অংশ হিসাবে স্কুলে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সামাজিক দূরত্বের মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

‘ডেল্টাক্রন নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই’ : সাইপ্রাসে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টাক্রনে’ আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এ নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে সাইপ্রাসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাইকেল হাদজিপান্টেলা বলছেন, নতুন এই ধরন নিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সচেতন রয়েছে। করোনার নতুন ধরন নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাইপ্রাসের বিজ্ঞানীদের প্রশংসাও করেন তিনি। এর আগে সাইপ্রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং বায়োটেকনোলজি ও মলিকুলার ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান লিওনডিওস কোস্ট্রিকিস এবং তার দল নতুন এই ধরনটি আবিষ্কার করেছেন। করোনার ডেল্টা ও ওমিক্রন ধরনের সংমিশ্রণে এ ধরনটির নামকরণ করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে