শরীর ও মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে যোগাসন

0
31

অনলাইন ডেস্কঃযোগাসন হতে পারে সবচেয়ে সেরা উপায়। যোগাসন আপনাকে যাবতীয় চাপ থেকে মুক্তি দেবে। যোগাসন শুধু দেহের জন্য নয়, মনের জন্যও কাজ করে। আপনাকে আরো ধৈর্যশীল এবং সহনশীল হতে শেখায়। জীবনের অনেক মানসিক অশান্তি দূর হয়ে যায় যোগাসন করার মাধ্যমে।

মূলত যোগ শব্দ সংস্কৃত শব্দ ‘ইউয্‌’ থেকে এসেছে। যার মানে হল একত্রিত; আত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ। যোগ বিশেষজ্ঞদের সংজ্ঞানুসারে যোগ অর্থাৎ মনের পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করা। বিভিন্ন ধরণের যোগ থাকলেও, প্রত্যেক ধরণের যোগের উদ্দেশ্য হল মনকে নিয়ন্ত্রণ করা।

স্বাস্থ্যের উপকারিতা প্রদান করতে যোগাসনের ভূমিকা প্রবল। রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে শরীরের যেকোনো ব্যাথা বা কষ্ট কমাতে যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। নিয়ম করে কয়েক মাস যোগাসন চর্চা করলেই অনায়সে শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

সুস্থ শরীরের ভাষা বোঝে যোগাসনই। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরচর্চার মাস্টারস্ট্রোক এখানেই। যোগাসন টক্সিন দূর করে। রোগ প্রতিরোধ বাড়ায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরে সোডিয়াম, পটাসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত যোগাসনে শরীরের কলকব্জা ঠিকভাবে কাজ করে। হরমোনের ক্ষরণও সঠিক মাত্রায় হয়। ট্রাইগ্লিসারাইড বা রক্তের ফ্যাটকে দুর করে। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা বাড়ায়। রক্ত স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে। শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়ায়। ভিটামিন সি হলো এমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আর্থ্রাইটিসের মোক্ষম দাওয়াই হল যোগাসন। তাছাড়া অফিসে সারাদিন একভাবে বসে থেকে শিরদাঁড়ায় ব্যথা, পিঠে বা পায়ের ব্যথায় আরাম পেতেও নিয়মিত যোগাসন করা উচিত। যেমন, ঘাড় আর কাঁধের কিছু ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে কাঁধের ব্যথা বা ঘাড়ের ব্যথা সারিয়ে নেওয়া যায়।

আধুনিক জীবনযাত্রায় নিজেকে সুস্থ রাখতে যোগাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই সারা বিশ্বে যোগাসনের চর্চা চলছে। কিন্তু যোগব্যায়াম চর্চার জন্য এ সম্পর্কে সবকিছু সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন, যেমন- যোগাসনের নিয়ম, যোগাসন পদ্ধতি, যোগাসনের উপকারিতা, ইত্যাদি।

প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনের মাঝে নিজের জীবনে সামান্য সময় বের করে যোগাসন করুন। করোনাকালে বাড়িতে পরিবারের একে অপরের সঙ্গে সময় কাটান, সবাইকে নিয়ে সুস্থ থাকুন।

যোগাসন করার সময় কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ভরা পেটে যোগাসন করবেন না। ইয়োগা টিচার ক্রিস্টিন ম্যাকগি এর মতে ইয়োগা অনুশীলনের ১ ঘন্টা আগে খেয়ে নিতে হবে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে ইয়োগা করার ২০ মিনিট আগে ১টা কলা খেয়ে নিতে পারেন। খাওয়ার সাথে সাথে যোগাসন করলে হজমে সমস্যা হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে